বাংলাদেশে সাহিত্যগবেষণার ধারা
Abstract
বর্তমান নিবন্ধ ১৯৪৭ থেকে ১৯৮২ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত কালপরিসরে ব্যাপ্ত বাংলাদেশের সাহিত্য-গবেষণার প্রাসঙ্গিক মূল্যায়ন এবং পরিচয় দানের প্রয়াস। এ-নিবন্ধ মূলতঃ ইতিহাসমূলক ও মূল্যায়নপ্রবণ গবেষণাগ্রন্থ-নির্ভর ; অর্থাৎ বাংলাভাষায় সম্পন্ন গবেষণাকর্মের গ্রন্থরূপ বর্তমান আলোচনার উপজীব্য। আবিষ্কৃত পুথি ও সংগৃহীত লোকসাহিত্যের সম্পাদন৷ সাহিত্যগবেষণার পর্যারভুক্ত হলেও এ ধারা আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। গবেষক সর্বদাই সত্যসন্ধ ; তিনি আলোকসম্পাতনকারী আবিষ্কারক কিম্বা মূল্যায়ন-প্রয়াসী, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের নির্দেশক নন। আমাদের উদ্দেশ্য প্রধানতঃ পর্যবেক্ষণ, সত্যানুসন্ধান এবং মূল্যায়ন। উল্লেখযোগ্য, বাংলাদেশের সাহিত্যগবেষণার বিকাশধারা অদ্যাবধি অব্যাখ্যাত; ক্ষুদ্রকায় প্রবন্ধে এ-সম্পর্কিত আলোচনা খণ্ডিত এবং বিরলদৃষ্ট গ্রন্থ প্রধানতঃ তথ্যপূর্ণ। এ-দেশের পঁয়ত্রিশ বছরের সাহিত্যগবেষণা মিশ্রভাবে সাফল্য ও ব্যর্থতাজ্ঞাপক। গৃহীত তথ্যের পর্যবেক্ষণ এবং সত্য-আবিষ্কার যাবতীয় গবেষণা কার্যের লক্ষ্য। মেধা ও মনন-চর্চায় কোন জাতি যখন উৎকর্ষে পৌঁছায় তখনই সৃষ্ট হয় সত্যসন্ধানী গবেষকের, সাফল্য আসে গবেষণায়। ঐ কালসীমায় বাংলাদেশে যথার্থ সাহিত্যগবেষণার স্বল্পতা জাতির
বোধ ও বোধির স্তরকে অভিব্যক্ত করে। পূর্বের উক্তি নৈরাশ্যসূচক হলেও একথা স্বীকার্য যে, মননচর্চার দৈন্য সত্ত্বেও মননশীল গবেষকের কল্যাণে সার্থক-সম্পাদিত গবেষণার দৃষ্টান্ত এদেশে একেবারেই বিরল নয়। উল্লিখিত হয়েছে, মেধার উৎকর্ষই সৃষ্টি করে গবেষক ও গবেষণা ; সৃষ্টিশীল প্রতিভার তুলনায় সমালোচকদের দ্বিতীয় পংক্তির প্রতিভাব হিসেবে আখ্যায়নে আমরা তাই সন্মত নই। এ-ধরনের বিভাজন বিজ্ঞান-প্রসূত নয়; কেননা শিল্পীর সাধনা সৃষ্টিতে, গবেষকের আরাধনা সৃষ্টির রহস্য উন্মোচনে। গবেষক বর্তমানে দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করেন অতীত, প্রত্যক্ষ করেন প্রমাণ সাপেক্ষ ভবিষ্যৎ—তাঁর কর্ম সন্দেহাতীতভাবে দুরূহ।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1982 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.