রবীন্দ্রনাথের উত্তর-কাব্যে প্রকৃতি
Abstract
রবীন্দ্রনাথের উত্তরজীবন কবির জীবনের শেষদশক, যা কালের দিক থেকে বিংশ শতাব্দীর ত্রিশদশক। এ সময়ে সংগঠিত স্বদেশ ও বিশ্বের ঘটনাবলী কবির অভিজ্ঞতা ও চেতনাকে প্রত্যক্ষভাবে স্পর্শ করেছে, যার সংগে উত্তরজীবনে রবীন্দ্রনাথের কাব্যরীতি ও প্রকৃতিচেতনার সম্পর্ক বর্তমান। রবীন্দ্রনাথের উত্তরজীবনের অর্থাৎ জীবনের শেষ দশ বছরের কাব্য ‘পুনশ্চ' থেকে 'শেষলেখা' (সময় বাং ১৩৩৯-১৩৪৮; ইং ১৯৩২-১৯৪১ খৃ.)। এ পর্যায়ে প্রকৃতির প্রতি রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভংগীর স্বরূপ বিশ্লেষণ আলোচ্য প্রবন্ধের লক্ষ্য। রবীন্দ্রনাথের প্রকৃতি বিষয়ক কবিতায় দৃশ্যবর্ণনার প্রাচুর্য, 'পুনশ্চ'-পূর্ব কাব্যে যে প্রাকৃতিক দৃশ্য বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই উত্তর-পূর্ববঙ্গের নিসর্গ; আলোচ্য পর্যায়ে প্রাধান্য রাঢ় অঞ্চলের। এ পর্বে প্রকৃতির দৃশ্যপট অংকনে রবীন্দ্রনাথ প্রায়শঃই বর্তমান থেকে অতীতে বা সরাসরি অতীতে চলে গিয়েছেন। 'পুনশ্চ'-পূর্ব কাব্যে বর্ষা বা বসন্ত বর্ণনায় কল্পনায় স্থান পেয়েছে প্রাচীন ভারত—কালিদাসের কাল অর্থাৎ দূর অতীত। উত্তরকাব্যে প্রধানতঃ তা বর্তমানকালের পরিচিত জনপদেই সীমাবদ্ধ। আলোচ্য পর্যায়ে যখনই তিনি অতীতে প্রত্যাবর্তন করেছেন, তখন তা মূলতঃই নিকট অতীতের স্মৃতিচারণের জন্য; যেমন 'পুনশ্চ' কাব্যের “বিচ্ছেদ” কবিতাটি। উত্তর-কাব্যের প্রকৃতি বর্ণনার এক প্রধান অংশ জুড়ে রয়েছে বালক রবীন্দ্রনাথের বোলপুর প্রকৃতির স্মৃতি।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1982 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.