মীর মশাররফ রচনা-সম্ভার
Abstract
ঊনবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুসলমান লেখক মীর মশাররফ হোসেনের মৃত্যুর ত্রিশ-চল্লিশ বছর পর তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থ দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়ে। ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘সাহিত্য-সাধক চরিতমালা'য় (২৮শ খণ্ড) অন্তব্য করেছেন যে, “দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের এই প্রতিভাবান সাহিত্যিককে আজ আমরা নামেমাত্র চিনি; তাঁহার জীবনীর এবং জীবনের সকল কীর্তির পরিচয় তাঁহার স্ব-সমাজের লোকও রাখেননা।” তিনিই প্রথম মশাররফ হোসেন সম্পর্কে তাঁর অমর-কীর্তি ‘সাহিত্য-সাধক চরিতমালা'-র ২৮শ এবং ২৯শ খণ্ডে বিস্তৃত পরিচয় দান করেন। নানা সূত্রে জানা যায় মীর মশাররফ অনধিক ৩৬ খানা গ্রন্থের লেখক ছিলেন কিন্তু সম্প্রতিকাল পর্যন্ত পাঠক-সমাজ তার অল্পেরই সংবাদ রাখত। যাঁরা তাঁর সম্পর্কে কিছু লিখেছেন তাঁরাও তাঁর কয়েকখানা মাত্র রচনা চাক্ষুষ দেখেছিলেন। অবশ্যি সেই কয়েকথান৷ গ্রন্থের দ্বারাই প্রমাণ হয়েছিল যে মশাররফ হোসেন ছিলেন উনবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম মুসলিম-লেখক এবং সামগ্রিকভাবে গত শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক। পাকিস্তান আমলে বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনার পরিচয় আবিষ্কারে ব্রতী গবেষকবৃন্দ তাঁর জীবন ও কর্মের সম্যক পরিচয় তুলে ধরবার প্রয়াস পেয়েছিলেন। অধ্যাপক আবদুল লতিফ চৌধুরী, অধ্যাপক ডক্টর আশরাফ সিদ্দিকী, অধ্যক্ষ মুহম্মদ আবদুল হাই, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী ও ডক্টর মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল প্রমুখ এ-বিষয়ে তৎপর হয়েছিলেন। এ-প্রসঙ্গে অধ্যাপক কাজী আবদুল মান্নানের অবদান ব্যতিক্রমধর্মী। তিনি ‘সাহিত্য পত্রিকা'র মীরের ‘উদাসীন পথিকের মনের কথা' সম্পর্কে প্রথম তথ্যভূয়িষ্ঠ আলোচনা করেন। তারপর তিনি 'আধুনিক বাংলা সাহিত্যে মুসলিম-সাধনা' (১৯৬১) গ্রন্থ রচনা করে গত শতকের বাংলা৷ সাহিত্যে মুসলিম অবদানের যে পরিচয় উদ্ঘাটন করেন তা মৌলিক এবং পথিকৃতের গৌরব দাবি করতে পারে। এ-গ্রন্থ রচনার কালেই মশাররফ হোসেনের সাহিত্যকীর্তি সম্পর্কে তাঁর বিশেষ কৌতূহল জাগ্রত হয়। এবং তখন থেকেই তিনি মীরের রচনাবলী সংগ্রহে মনোনিবেশ করেন। কলকাতার বিভিন্ন গ্রন্থাগার, দেশের বিভিন্ন গ্রন্থাগার এবং বৃটিশ মিউজিয়াম গ্রন্থাগার-সূত্রে তিনি মীর মশাররফ হোসেনের অধিকাংশ গ্রন্থ সংগ্রহ করে গ্রন্থাবলী প্রকাশের আয়োজন করেন প্রাক্-স্বাধীনতা আমলে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1983 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.