মুসলিম সাহিত্য-সমাজ : সমাজচিন্তা ও সাহিত্যকর্ম
Abstract
রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ওদেশে বাংলা গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোজিত হয়েছে। বাঙালী মুসলমান-সমাজ নব্যচিন্তার ক্ষেত্রে আদৌ যে একটি পিছিয়ে-পড়া অংশ নয়, এই বিভ্রান্তি অপনোদনের প্রয়োজন আছে। সে-কথা বিভিন্ন গবেষক বলেছেন দেখে আনন্দবোধ করছি। সেই বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের যুগেই হামেদ আলী ‘বাসনা' পত্রিকায় (বৈশাখ, ১৩১৬) লিখেছিলেন, “আমাদের অনেকের মোহ ছুটে নাই। তাঁহারা বাঙ্গালার বাঁশবন ও আম্রকাননের মধ্যস্থিত পর্ণকুটিরে নিদ্রা যাইয়াও এখনও বোগদাদ, বোখারা, কাবুল, কান্দাহারের স্বপ্ন দেখিয়া থাকেন। কিন্তু কেহ আবার বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে মাতৃভাষা করিবার মোহে বিভোর।” অধ্যাপক খোন্দকার সিরাজুল হক ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ'-এর ইতিহাস পর্যালোচনা করে আমাদের বুঝিয়ে দিলেন শুধু বঙ্গভাষাপ্ৰীতি নয়, জীবনের সর্বক্ষেত্রে যুক্তিবাদকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘শিখা” শ্বোষ্ঠীর লেখকসমাজ বঙ্গ-সংস্কৃতির ভূমণ্ডলে কী বৃহৎ সাধনায় না ব্ৰতী হয়েছিলেন! নৈষ্ঠিক সাহিত্য-সমালোচকেরা কেবল ধ্রুপদী বা আধুনিক সাহিত্যের রস ও রূপ বিশ্লেষণে নিজেদের সামর্থ্যকে সীমিত রাখেন। ভাবটা খানিক পরিমাণে এই রকম যে, সাহিত্য জিজ্ঞাসায় সমাজ প্রসঙ্গ কেন নাক গলাবে! সুখের বিষয় এই সংকীর্ণবোধ আজ লুপ্ত হচ্ছে, বা তার প্রতিবাদী মত সম্মুখে এসে দাঁড়াচ্ছে। সাহিত্যের প্রতিষ্ঠাভূমি হোল যে-জগতে, সেখানে কল্পনার পাশাপাশি মননের জন্যও একটি অঞ্চল ছেড়ে দিতে হয়।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1986 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.