আবুল হাসান : জীবনবোধ ও সাহিত্যবৈশিষ্ট্য
Abstract
আধুনিক মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ, নৈঃসঙ্গ্যচেতনা, স্মৃতিমুগ্ধতা, আত্মমুখিতা এবং হার্দিক-রক্তক্ষরণের রূপকার হিসেবে বাংলাদেশের কাব্যসাহিত্যে কবি আবুল হাসান (১৯৪৭-১৯৭৫) একটি বিশিষ্ট নাম। ষাটের দশকের মধ্যলগ্নে বাংলা কাব্যাঙ্গনে আবির্ভূত হয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যে তিনি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছেন একটি স্বকীয় কাব্যভুবন। আত্মতা এবং আমিত্বই আবুল হাসানের সহিত্যকর্মের মুখ্য উপজীব্য; বস্তুত, তার প্রায় সকল সৃষ্টিই আত্মজৈবনিক রচনা। আত্মপ্রীতি, দুঃখবোধ আর স্বপ্নপীড়িত বেদনাবিলাস নিয়ে আবুল হাসান ডুবে থাকতে চেয়েছেন তাঁর অন্তস্তলে; কিন্তু সংবেদনশীল শিল্পীসত্তা তাকে অন্তর্লোকের অতল থেকে বার বার তুলে এনেছে বহির্লোকের প্রাঙ্গণে। তাই বিরূপ-বিশ্বে নিয়ত একাকী হয়েও তিনি অবশেষে মারী আর মড়ক, প্রণয় আর প্রতারণা, রিক্ততা আর রুগ্নতা অতিক্রম করে জয়শ্রী-জীবনের সন্ধানে উপস্থিত হন সমষ্টির আঙিনায়। আত্মভাষ্যের আড়ালে আবুল হাসানের কবিতা-গল্প-নাটকে আমরা লক্ষ্য করি সমকালীন বাংলাদেশের নানা আলোড়ন-বিলোড়ন, মূল্যবোধহীনতা, রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচার, সংগ্রামশীল মানুষের দুর্মর জীবনযন্ত্রণা, স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি এবং যুদ্ধোত্তর বিপন্নতার চিত্র। তবে, কবি আবুল হাসানের স্বাতন্ত্র্য এখানে যে, নিখিল নিরাশার প্রান্তরে বাস করেও তিনি মানুষকে শোনান আশার গান, তাঁর সৃষ্টিসম্ভার হয়ে ওঠে ‘অনিঃশেষ শান্তিকামী আলো'-র অপরূপ-উৎস।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1990 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.