রবীন্দ্র-কাব্যপাঠ (কণিকা-কথা-কাহিনী)

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v34i1.1
Crossmark

Authors

Abstract

একজন কবি বিভিন্ন সময়ে কবিতা রচনা থেকে বিশ্রাম গ্রহণ করেন, কিন্তু বিশ্রামটি কর্মহীন বিশ্রাম হয় না। বিশ্রামের সময়ও লঘুভাবে কিছু রচনা করতে চান, অতি সাধারণ বস্তুকে স্পর্শ করে আনন্দিত হতে চান। রবীন্দ্রনাথ যখন ‘কণিকা করলেন তখন তিনি কাব্যকর্ম থেকে কিছুটা অবসর নিয়েছিলেন মনে হচ্ছে। প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় তাঁর 'রবীন্দ্র জীবনী'তে উল্লেখ করেছেন যে, রবীন্দ্রনাথ যখন ‘কণিকা’রচনা করেন তখন মূলত তিনি কাব্য হিসেবে কিছু লিখছিলেন না, লিখবার প্রেরণাও তাঁর ছিল না। জমিদারী ও ব্যবসা সংক্রান্ত নানাবিধ জটিলতার মধ্যে তিনি তখন ছিলেন। সে সব কিছুর হিসেব-নিকেশ করা, পুত্র বলেন্দ্রনাথের পীড়াজনিত উদ্বেগ, পুত্র-কন্যাদের জন্য শিলাইদহে শিক্ষার ব্যবস্থা করা কবির শরীর ও মনকে ক্লান্ত করেছিল। এ সময় রবীন্দ্রনাথ বিশেষ কোন রচনায় হাত দেননি। এ সময় মহৎ সাহিত্য সৃষ্টির বিশেষ কোন আবেগ আমরা লক্ষ্য করি না।‘কণিকা'র কবিতাগুলো তত্ত্বকথায় পরিপূর্ণ। ঠিক কবিতা যাকে বলে, যার মধ্যে কবির বিশ্বাস, উপলব্ধি, স্পর্শকাতরতা এবং আবেগ ধরা পড়ে, এগুলোর মধ্যে তার কিছুই নেই। এগুলো ছন্দোবদ্ধ সারগর্ভ ভাষণ। যে সমাজে এবং সংসারে কবি তখন বাস করছিলেন এবং ব্যবসায় ও জমিদার বৃত্তির কর্মকাণ্ডে যে সমস্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন সেগুলোর উপর ভিত্তি করে ‘কণিকা'র বক্তব্যগুলো লিখিত হয়ে-ছে। ‘কণিকা'র মধ্যে বিদ্রূপ আছে, পরিহাসদীপ্ত উক্তি আছে এবং সামাজিক অভিজ্ঞতার নির্মম দাহন আছে।

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.

Published

1990-10-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

রবীন্দ্র-কাব্যপাঠ (কণিকা-কথা-কাহিনী). (1990). সাহিত্য পত্রিকা, 34(1), 1-20. https://doi.org/10.62328/sp.v34i1.1