সতেরো শতকের রোসাঙ্গরাজ্যের কবি মরদান রচিত নসিবনামা
Abstract
একালের চট্টগ্রাম প্রায় ঐতিহাসিক কাল থেকেই ছিলো বৌদ্ধধর্মাবলম্বী মঙ্গোল গোত্রীয় আরাকান রাজাদের অধিকারে ও শাসনে। আরাকানের অপর প্রচলিত নাম ছিলো 'রখইঙ্গ' যা সংস্কৃত 'রক্ষতুঙ্গ' শব্দের অপভ্রংশ বলেই অনুমান করা চলে। এ 'রখইঙ্গ' থেকেই 'রোহাঙ' নাম বিকৃত উচ্চারণে চালু হয়। চট্টগ্রাম থেকে আসাম অবধি বিস্তৃত অঞ্চলে 'স' স্থানীয় উপভাষায় সাধারণভাবে 'ই' হয়ে যায়। যেমন সকল > হগল, সঙ্গে > হঙ্গে, সম্বন্ধী > হম্মন্দী, সংবাদ > হংবাদ ইত্যাদি। চট্টগ্রামী বাঙালীরা তাই রোহাঙ-এর 'হা'কে অশুদ্ধ উচ্চারণ মনে করে তাকে 'সা' করে বিশুদ্ধ করেছেন। তাই উপভাষায়-বুলিতে রোহাঙ>রোয়াঙ রূপে আজ অবধি উচ্চারিত ও প্রচলিত থাকলেও লিখিত ভাষায় 'রোসাঙ্গ' রূপে লেখেন এবং মুদ্রিত করেন। চট্টগ্রাম বহির্ভূত অঞ্চলের লোকের এ ধারণা না থাকায় আমাদের সাংবাদিকরা রোহাঙবাসীদের রোসাঙ্গী বা রোহাইঙ্গা কিংবা রোয়াইঙ্গী অথবা রোঞাই নামে চিহ্নিত না করে 'রোহিঙ্গা' বলেই অভিহিত করেন। আমাদের ধারণা চট্টগ্রাম অবিচ্ছিন্নভাবেই আরাকানের অধিকারে ছিল নয় শতকে কান্তিদেবের চট্টগ্রামের একাংশে কিছুকাল রাজত্ব করা অবধি। পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রামও সম্ভবত মঙ্গোল অরির [শত্রুর} ক্রীড়াক্ষেত্রে [বিচরণ ক্ষেত্র) হরিখেল [অরিক্রীড়া> হরিখেল] ভূমির অন্তর্ভুক্ত ছিল। কান্তিদেবের মোট তিন খানা তাম্রশাসন পাওয়া গেছে। প্রথমটি আবিষ্কৃত হয়েছিলো বড় উঠান (বড় উত্থান) গাঁয়ে, যা সম্ভবত ছিলো কান্তিদেবের সমুদ্রমোহনাস্থিত বর্ধমানপুরী নামের রাজধানীতে। বড় উত্থান বড়মা ধর্মমানপুরীর নামান্তর হতে পারে। অন্য দুটোও কর্ণফুলী নদীমোহনার নিকটস্থ সমুদ্রোপকূলস্থ সলিমপুর গাঁয়ের। আরাকান রাজেরা পূর্ববঙ্গেও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ময়নামতী-বিক্রমপুর অঞ্চলে যেসব চন্দ্রবংশীয় রাজারা নয়-দশ শতকে রাজত্ব করেন, তাঁরা সম্ভবত আরাকানরাজাদেরই প্রশাসক প্রতিশরীর বংশীয়। ইতিহাসের সাক্ষ্যে আমরা এও দ্বিতীয় সংখ্যা। সতেরো শতকের রোসাঙ্গরাজ্যের কবি মরদান রচিত নসিবনামা জানি মাঝে মধ্যে চট্টগ্রামে নয় শতক থেকে ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দ অবধি সোনারগাঁয়ের, গৌড়ের, ত্রিপুরার সুর বংশের ও মুঘলের এবং সর্বশেষে ব্রিটিশের কবলে পড়েছে। হীনবল রোসাঙ্গ রাজ ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে দোহাজারী অবধি শঙ্খ (সঙ্গু) নদের তীর অবধি] এবং ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে সিরাজুদ্দৌলার আমলে টেকনাফ অবধি অঞ্চল হারিয়ে চট্টগ্রাম থেকে উচ্ছেদ হয়ে যান। চট্টগ্রাম জেলার বৌদ্ধ বড়ুয়া, মুৎসদ্দী, চৌধুরীরা আরাকানী রাজত্বকালে নানা দায়িত্বে ও পেশায় নিয়োজিত আরাকানী মঙ্গোলদেরই স্থায়িনিবাসী বংশধর।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.