তারাশঙ্করের জীবনদর্শন : উৎস ও স্বরূপ প্রাথমিক চেতনা-উৎস
Abstract
ক্ষীয়মাণ সামন্তসমাজের এক ক্ষুদ্র জমিদার পরিবারে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১৮৯৮-১৯৭১) জন্ম। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন' কার্যকর হওয়ার অব্যবহিত পরবর্তী দশকে ব্রিটিশ বাণিজ্য-পুঁজির সচল ভূমিকা সমাজকাঠামোর গুণগত পরিবর্তনকে করেছে ত্বরান্বিত। ভূমি বন্দোবস্তের ঐ চিরস্থায়ী - আইন প্রধানত ব্রিটিশ বাণিজ্য পুঁজির আশীর্বাদ ধন্য নব্য ধনিক- সম্প্রদায়ের স্বার্থকেই সূদৃঢ়বদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের সমাজে সামন্ত-মধ্যযুগ থেকে প্রাক্-ধনতন্ত্রী আধুনিক যুগে উত্তরণের এই সংক্রান্তি-পর্ব, ক্ষয়িষ্ণু বনেদি জমিদার শ্রেণীর সঙ্গে বাণিজ্য-পুঁজির আনুকূল্যে নবজাত জমিদার ও মধ্যশ্রেণীর দ্বন্দ্ব- সংঘাতে মুখর। এর একদিকে সম্ভ্রান্ত সংস্কৃতির পরাভবজাত মর্মান্তিক বেদনা, অন্যদিকে নবলব্ধ অর্থকৌলীন্যের দৌরাত্ম্যে সমাজ-সংসার-জীবনকে অধিগত করার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা। বিপরীতমুখী এই দুই স্রোতের টানাপোড়েনে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে যে-শ্রেণী তারই উত্তরপুরুষ তারাশঙ্কর। একদিকে পরিবার- জীবনে শ্রেণীগত উত্তরাধিকার লাভ, অন্যদিকে সমকালীন রাজনীতির ঘটনাপ্রবাহ এবং ভৌগোলিক-সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের প্রভাব আত্মস্থ ক'রেই ঔপন্যাসিক তারাশঙ্কর তাঁর শিল্পিচৈতন্য ও সমাজবোধের সামবায়িক প্রেক্ষণবিন্দু থেকে সমাজের গতিশীলতাকে প্রত্যক্ষ করেছেন। এই অর্থে তারাশঙ্কর পরিবর্তমান কালের দ্বন্দ্বময় পরিস্থিতির সতর্ক দ্রষ্টা এবং এর শিল্পভাষ্য সৃজনের সাফল্যে মহান শিল্পী।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.