নজরুল পাণ্ডুলিপি
Abstract
পূর্ব বাংলার সঙ্গে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক ছিল অনেক গভীর এবং তা তাৎপর্যপূর্ণও বটে। জীবনে বহুবার কবি পূর্ব বাংলায় আগমন করেছিলেন। বাল্যকালে তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশালে ছিলেন প্রায় এক বছর, তারপর কুমিল্লা-চট্টগ্রামে এবং আরো পরে ঢাকাসহ উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন শহরে নানা উপলক্ষে এসেছিলেন—সেসব কথা আমরা সবাই অবগত আছি। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের অনেক ঘটনা কুমিল্লা ও ঢাকা সফরের সঙ্গে সম্পর্কিততাঁর জীবনের অনেক কথা কুমিল্লা-ঢাকা-চট্টগ্রামের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশের যুক্ত হয়ে আছে। সমুদ্রতীরের চট্টগ্রাম শহরে আছে কবিজীবনের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য স্মৃতি—আছে কবির বেশ কিছু উৎকৃষ্ট কাব্য রচনা। তাঁর বিখ্যাত ‘সিন্ধু হিন্দোল' ও 'চক্রবাকের অনেক কবিতাই এই চট্টগ্রাম শহরে রচিত। সেকালের একজন তরুণ নেতা ও সাংস্কৃতিক কর্মী মুহম্মদ হবীবুল্লাহ বাহারের আমন্ত্রণেই নজরুল চট্টগ্রামে আগমন করেন ১৯২৬ সালের জুলাই-অগাস্ট মাসে। তিনি অবস্থান করেন হবীবুল্লাহ বাহারের মাতামহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আবদুল আজিজের বাড়িতে। বাহারের বাড়ি নোয়াখালি জেলায় কিন্তু তিনি শৈশবে পিতৃহীন হয়েছিলেন তাই তিনি ও তাঁর জননীসহ চট্টগ্রামে তাঁর মাতামহ আবদুল আজিজের বাড়িতে অবস্থান করতেন। চট্টগ্রামে আবদুল আজিজের বাড়িতে (জুবিলী রোড, তামাকুমণ্ডি) নজরুল এসে বেশ কিছুদিন কাটিয়েছিলেন। ‘সিন্ধু' নামের বিখ্যাত তিনটি কবিতা এখানেই রচিত। চক্রবাকে মুদ্রিত হয়েছিল ‘সিন্ধুর’ চতুর্থ কবিতা ‘শীতের সিন্ধু। প্রথম তিনটি কবিতা গ্রন্থিত হয় ‘সিন্ধু হিন্দোল' গ্রন্থে। চট্টগ্রামে কবি এসেছিলেন দুবার—১৯২৬ সালে প্রথমবার, ১৯২৯ সালে দ্বিতীয়বার। চট্টগ্রামে রচিত কবিতাগুলির একটি পাণ্ডুলিপি (একসারসাইজ বুক রুলটানা খাতা-বাঁধাই করা) সংরক্ষণ করেছিলেন হবীবুল্লাহ বাহার। সম্ভবত কবিতাগুলির প্রেস কপি তৈরি করে কবির কাছে পাঠাবার জন্যই হবীবুল্লাহ বাহারকে ঐ পাণ্ডুলিপি দিয়ে গিয়েছিলেন। নজরুলের একটি চিঠিতে সেরকমই কথা আছে। হবীবুল্লাহ বাহার ১৯৪৭ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1999 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.