থিয়েটারে ইম্প্রোভাইজেশন
Abstract
কোন এক অনুভূতি সম্পন্ন মানুষের গভীর উপলব্ধি থেকে উৎসারিত সৃষ্টি যা সম্পূর্ণতা লাভ করে অপরের রসাস্বাদনের মধ্যে তাই শিল্প। ভোক্তা মানুষের কাছে সেই শিল্পরস পরিবেশিত হওয়া চাই। শিল্প এক অপূর্ব সৃষ্টি বা বস্তু যা একমাত্র বিশেষ প্রতিভা দ্বারাই নির্মাণ করা সম্ভব এবং যার প্রকাশ ও বিকাশ শুধু বুদ্ধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। প্রত্যেক শিল্পকলার দুটি লক্ষণ হল (ক) উপভোক্তার সঙ্গে যোগাযোগ সৃষ্টি করা; (খ) উপভোক্তার মনে আবেগ বা রস সঞ্চার করে আনন্দদানের মাধ্যমে শিক্ষাদান ও সচেতন করা। এই দুটি কার্য সিদ্ধ হলে আমরা সেই কর্মকে শিল্প বা সৃজনশীল কর্ম বলতে পারি। এই সৃজনশীল কর্ম সম্পাদন করতে হলে একজন শিল্পীর সবেচেয়ে মহান এবং প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজেকে স্বাধীন এবং পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করা। আমাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ প্রত্যয় আছে। এ ছাড়াও আছে আমাদের নিজস্ব জগতের দৃষ্টিভঙ্গি, নিজস্ব আদর্শ এবং জীবনের প্রতি একটি নৈতিক মনোভাব। এ ধরনের (গভীরভাবে) দৃঢ় অবচেতন মতবাদ একটি লোকের ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবোধ গঠন করে এবং এই স্বাতন্ত্র্যবোধই স্বাধীন অভিব্যক্তির চরম আকাঙ্ক্ষা। চিন্তাশীল ব্যক্তি যাঁরা নিজেদেরকে প্রকাশে সচেষ্ট থাকেন, তাঁরা নিজস্ব দার্শনিক রীতি বা প্রণালী তৈরি করেন। অনুরূপভাবে একজন শিল্পী তাঁর অন্তরের স্থির ধারণাকে প্রকাশের জন্য পূর্ব প্রস্তুতি ব্যতিরেকে উপস্থিত মত প্রকাশ করেন নিজের তাৎক্ষণিক উদ্ভাবিত কৌশল দ্বারা। এই কৌশলই হচ্ছে তার শিল্পের নির্দিষ্ট রূপ। একই কথা আমরা একজন অভিনেতার শিল্পের ব্যাপারেও বলতে পারি। তাঁর অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষা এবং পরম লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে কেবল পূর্ব প্রস্তুতি ব্যতিরেকে তাৎক্ষণিকভাবে মত প্রকাশের কৌশল দ্বারা যাকে আমরা Improvisation বলি।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1999 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.