আনোয়ার পাশার রাইফেল রোটি আওরাত : সময়ের দায় ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v42i2.1
Crossmark

Authors

Abstract

কথাশিল্পী ও অধ্যাপক আনোয়ার পাশা তাঁর 'রাইফেল রোটি আওরাত' গ্রন্থে পূর্ববাংলার রাজনৈতিক পরিবেশের বর্ণনা প্রদান করতে গিয়ে মন্তব্য করেছিলেন—একটা পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল বটে উনিশ শো সাতচল্লিশের চোদ্দই আগস্ট। সেটা পাকিস্তানের রাজনৈতিক সত্তা, সেটা দেহ। রাষ্ট্রের প্রাণ হচ্ছে তার অর্থনীতি, এবং তার চিন্ময় সত্তার অভিব্যক্তি সাংস্কৃতিক বিকাশের মধ্যে। ঐখানেই ছিল গণ্ডগোল। হাজার মাইলের ব্যবধানে বিরাজিত দুটো অংশের মধ্যে একটা অর্থনীতি গড়ে উঠলে তাতে একটা অংশের দ্বারা অন্য অংশের শোষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবেই,—অর্থনীতির ক্ষেত্রে একাংশের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হবে অন্য অংশের উপর। মুসলিম লীগ প্রাণপণে সেই আর্থনীতিক প্রাধান্য দেশের পশ্চিমাংশে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে উঠে-পড়ে লেগেছিল। অবশ্য আর্থনীতিক শোষণ ছাড়াও এ সময় তারা দুটি দেশের মধ্যে ভৌগোলিক দিক থেকে বিচ্ছিন্ন, সাংস্কৃতিক দিক থেকে বিচ্ছিন্ন পূর্ববাংলার ওপর সাংস্কৃতিক আধিপত্য বর্তাতে চাইলেন। দুই দেশের সংস্কৃতিকে এক করতে চাইলেন উর্দু ভাষার ভিত্তিতে। এই আর্থনীতিক শোষণ ও সাংস্কৃতিক পেষণ দুইই রাজনৈতিক কৌশলের অপর পীঠ। কিন্তু হাজার মাইলের ব্যবধানে বিরাজিত দুটো অংশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ঐক্য সাধন করা যে খুবই কঠিন এবং জটিল কাজ তা পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী বাস্তবতার নিরিখে বিচার না করে ধর্মীয় ভাবাবেগে আপ্লুত হলেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণেও উদ্যোগী হলেন। সাংস্কৃতিক ঐক্য সাধনের প্রাথমিক পর্ব ভাষার উপরও প্রয়োগ করা হল। কিন্তু পরিণামে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর কিছুটা হলেও বোধোদয় ঘটে যে, পূর্ববাংলার জনমানব অধিকাংশ মুসলমান হলেও এরা বাঙালি, বাংলা তাদের মাতৃভাষা। তাই মাতৃভাষার মমত্ববোধে বাঙালিরা শহিদ হতেও দ্বিধা করে না।

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.
cover

Published

1999-02-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

আনোয়ার পাশার রাইফেল রোটি আওরাত : সময়ের দায় ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা . (1999). সাহিত্য পত্রিকা, 42(2), 5-25. https://doi.org/10.62328/sp.v42i2.1

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%