সামন্ত সমাজে রুদ্র নারী : বসন্তকুমারীর রেবতী
Abstract
জনপ্রিয় অবস্থানে ও নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যম হিসেবে আজ যে নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে তার অবয়বটি সকল সময়ে এরকম ছিল তা ভাববার অবকাশ নেই। অথবা একথাও মনে করার কারণ নেই যে, বাংলা নাটকের সূচনা ১৭৯৫ সালে লিয়েবেদফের হাতে, কিংবা ইংরেজি শিক্ষা সংস্কৃতির প্রত্যক্ষ প্রভাবেই বাংলা নাটকের জন্ম। লিয়েবেদফ বা ইংরেজ শাসনের গুরুত্ব বাংলা নাটকে যে বিপুল তা অস্বীকার করা যায় না। চর্যাপদ, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য, নাথ সাহিত্যসহ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের প্রায় সকল সাহিত্যকর্মেই নাটকের উপাদান পাওয়া যায়। তবে অভিনয়োপযোগী বাংলা নাটক লেখা হয়েছিল কিনা, তা আজও জানা যায়নি। যদিও আদি নিদর্শন চর্যাপদে বুদ্ধ নাটকের উল্লেখ আছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা নাটকের সূচনা হয় ১৭৯৫ খ্রীষ্টাব্দে। রুশ দেশীয় যুবক গেরাসিম স্তেপানভিচ লিয়েবেদফ - কলকাতার ডুমতলায় বর্তমান এজরা স্ট্রীটে বেঙ্গলী থিয়েটার নামে একটি নাট্যশালা স্থাপন করলেন। তাঁর ভাষা শিক্ষক গোলকনাথ দাসের সাহায্যে তিনি দু'টি ইংরেজী প্রহসন বাংলাতে অনুবাদ করেন The disguise এবং Love is the best Doctor। তৎকালীন বাঙ্গালী সমাজের শিক্ষা ও রুচি অনুসরণ করে তিনি অনূদিত নাটক দুটিতে বিদ্যাসুন্দর যাত্রা থেকে অনেক গান দিয়েছিলেন। লিয়েবেদফের পর বাংলা নাটকে দীর্ঘ বিরতি লক্ষ করা যায়। অর্ধশতাব্দীর অধিককাল রহস্যময় বিরতির পর পর্যায়ক্রমে আবির্ভূত হন হরচন্দ্র ঘোষ, যোগেন্দ্র চন্দ্র গুপ্ত, তারাচরণ শিকদার, কালীপ্রসন্ন সিংহ, রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রমুখ। বাংলা নাটকের উন্মেষকালের এ নাট্যকারগণ নাটক রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে যেমন সমৃদ্ধ করেছেন তেমনি বাংলা নাটকের সম্ভাবনাময় দিগন্তকে উন্মোচিত করেছেন। তবে এদের নাটকে সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্রের সুকঠিন নির্বন্ধ থাকায় এবং প্রতিভার সীমাবদ্ধতাজনিত বিন্যাস শিথিলতায় বাংলা নাটকের প্রবাহ মন্থর হয়ে যায়। এসময়ের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, রামনারায়ণ তর্করত্নের রত্নাবলীর (১৮৫৮) ইংরেজি তরজমা করবার জন্যে নিযুক্ত হয়েছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। উপস্থিত ইংরেজ দর্শকদের সুবিধার্থে এ ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছিল। মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা নাটকের ম্লানদশা দেখে আহত হয়ে নাটক রচনায় উৎসাহ বোধ করেছিলেন। যে কারণে তাঁর হাতে জন্ম নেয় শর্মিষ্ঠা (১৮৫৯), পদ্মাবতী (১৮৬০), কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১) ইত্যাদি। ফলে বাংলা নাটক তাঁর কৃতিত্বে নতুন পথের সন্ধান লাভ করে। আর নবীন বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর মধুসূদনের নাটক বাংলা সাহিত্যের অক্ষয় কীর্তিতে রূপান্তরিত হয়। এরপর বাংলা নাটক নতুন পথে নানান বৈচিত্র্যে উদ্ভাসিত হয়ে প্রবল গতিতে অগ্রসর হয়। নাটক রচনার প্রখর খরারকাল অতিক্রান্ত হওয়ার পর মধুসূদন প্রদর্শিত পথে পা বাড়ান দীনবন্ধু মিত্র ও মনোমোহন বসু। দু-জনের সৃষ্টিসম্ভারে স্পষ্ট স্বাতন্ত্র্য থাকলেও নবীন পথকে সমৃদ্ধ করায় তাঁদের অবদান কম নয়। বিশেষ করে দীনবন্ধু মিত্রের অবদান অপরিসীম।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1999 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.