তরঙ্গভঙ্গ : একটি অভিব্যক্তিবাদী নাটক
Abstract
‘বহিপীর' থিমেটিক দিক থেকে বাংলা নাটকের প্রচলিত বিষয়-ভাবনার অনুগামী। কিন্তু তবুও পার্থক্য সূচিত হলো। 'লালসালু'-তে যেমন দেখা গেল প্রথানুগ বিষয়ের প্রকাশ সত্ত্বেও অন্যতর ভঙ্গি, তেমনি ‘বহিপীরে’র মধ্যেও সেই ধরনের ভিন্ন মেজাজ শিকড় গেড়ে নিল। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র শিল্পসাধনা ও চেতনার স্বকীয়তা প্রথম থেকে তার পথ করে নিচ্ছিল। “তরঙ্গভঙ্গ’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে সেই স্বতন্ত্র নাট্যচেতনা আত্মপ্রতিষ্ঠ হলো। সমসাময়িক উপন্যাস “চাঁদের অমাবস্যা'র মতো ঐ নাটকটি দেশজ পটভূমি সংলগ্ন হয়েও চিন্তার কাঠামে৷ ও প্রকরণশৈলীতে রীতিমত অগ্রবর্তী। ষাট দশকে যে ধারা বাংলা নাটকে বইছিল, তা থেকে বহু দূরবর্তী। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ নাটক ও উপন্যাস-উভয়ক্ষেত্রে এ সময় অভিন্ন একটি শিল্পরীতির চর্চায় মগ্ন ছিলেন। বোধকরি বিষয়-ভাবনার ক্ষেত্রে ঐক্যবোধ ছিল বলেই একই চিন্তার আবর্তন দুইটি মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছে। কোন শিল্পী যখন বিশেষভাবে শিল্পাদর্শগত কোন রীতির পক্ষপাত মেনে নেন তখন ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে তার প্রকাশ পথ করে নিলেও ঐ আদর্শই মৌল চারিত্র্যে পর্যবসিত হয়। বিষয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও তাই সেখানে অভিন্ন রীতির স্বপ্রতিষ্ঠ বিকাশ লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। ঐ রকম একটি রীতির বন্ধনে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র সাহিত্যচর্চা ক্রমশঃ বাঁধা পড়ছিল। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, বিষয়ের বৈচিত্র্য এবং বিভিন্নতা সত্ত্বেও রীতি ও প্রকরণকলার এই বশ্যতা তিনি কেন স্বীকার করে নিয়েছিলেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1982 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.