আরবি সাহিত্যে নাটকের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
Abstract
আরবি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় আধুনিকতার সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ থেকেই। আরবি নাটকের সৃষ্টি হয় আধুনিক আরবি কবিতা ও গদ্যরীতির পরে। রাজনৈতিক স্বাধীনতাই আরব জগৎকে নতুন প্রেরণায় উদ্দীপ্ত করে এবং এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটে আধুনিক আরবি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় এবং সেই স্বাধীনতার চেতনাসঞ্চারী উন্মেষ থেকেই সৃষ্টি হয় আরবি নাট্যসাহিত্য। আরবি সাহিত্যে নাটকের প্রচলন হয়নি ঊনবিংশ শতাব্দীর চতুর্থ দশক পর্যন্ত। বণিক-পর্যটকদের মাধ্যমে সামান্য কিছু নাটকের আমদানি হলেও তা ধর্মীয় দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ থাকায় রক্ষণশীল আরব সমাজে অভিনীত হতে পারত না। মিশর বিজয়ী নেপোলিয়নই প্রথম মিশরে অভিনয় ও রঙ্গালয়ের সূচনা করেন। অভিযানের পর সৈনিকদের মধ্যে আনন্দ দানের জন্য তিনি মিশরে থিয়েটার বা রঙ্গালয় আমদানি করেন। কিন্তু তাঁর এই থিয়েটার তখনকার মিশরের জনগণের মনে রেখাপাত করতে পারেনি। এজন্য দেখা যায় তাঁর বিদায়ের সাথে সাথে ওরও পরিসমাপ্তি ঘটে। সুয়েজ খাল খননকার্য সমাপ্ত হওয়ার পর ১৮৬৯ সালে খেদিব ইসমাইল পাশা একটি নাট্যশালা রাষ্ট্রীয়ভাবে জাঁকজমকের সাথে উদ্বোধন করেন। সেই স্মরণীয় অনুষ্ঠানে তিনি পাশ্চাত্যের তৎকালীন অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ইউরোপীয়দের অনুসরণে একটি নাট্য অভিনয়ের ব্যবস্থা করেন আজবেকীয়া উদ্যানে এবং তিনি উক্ত নাট্যালয়ের উদ্বোধন করলেন ১৮৬৯ খ্রীষ্টাব্দে। তৎকালীন ইউরোপীয় বণিক শিল্পী ও নাট্যকারগণ সুয়েজখালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে “আইদা” নামক একটি ফরাসী নাটক (মঞ্চস্থ) অভিনয় করেছিলেন। এর ফলে মিশরের যুবক-যুবতীদের মনে নাটক লেখা এবং অভিনয়ের প্রতি গভীর অনুপ্রেরণার সৃষ্টি হয়। আজবেকীয়া উদ্যানের অপর প্রান্তে একই সময় কমেডিয়া রঙ্গালয়টি স্থাপিত হয়।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1999 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.