বাংলাদেশের পঁচিশ বছরের সাহিত্যগবেষণা [১৯৭২-১৯৯৭]
Abstract
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় এবং ১৬ ডিসেম্বর সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই নবীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। সার্বভৌম ভূখণ্ড, স্বতন্ত্র জাতিসত্তা, সুনির্দিষ্ট মানচিত্র ও পতাকা অর্জন করে এবং রাষ্ট্রীয় চার মৌলনীতির ভিত্তিতে যে বাংলাদেশের যাত্রারম্ভ হয়েছিল এখন তার উত্তর-পঁচিশ তারুণ্য। অর্জিত ক্ষমতার অপব্যবহার, ক্ষুধা-দারিদ্র্য- দুর্ভিক্ষ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, অর্থনৈতিক সংকট ও অস্থিরতা, দুই মেয়াদে সামরিক স্বৈরশাসনের ধাতব হুঙ্কার, সংবিধানের চরিত্রহনন, শ্রেণীবিভক্ত সমাজসংগঠনের স্তরবহুল জটিলতা, গণতন্ত্রের বিপর্যয় ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পুনর্বাসন ও পুনরুত্থান, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন প্রয়াস ইত্যাদি দৈশিক প্রসঙ্গ এবং বিদেশী দুই পরাশক্তির মধ্যকার ভারসাম্যের অবলুপ্তি, অবাধ-বাজার অর্থনীতির সর্বত্রবিস্তারী ভূমিকা, ইলেক্ট্রনিক্স্ তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব—ইত্যাদি বৈশ্বিক ঘটনাধারার মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে বাংলাদেশের পঁচিশ বছর। সংকট ও বিপর্যয় সত্ত্বেও এই পঁচিশ বছর পশ্চাৎগামিতার নয়, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রারই ইতিহাস। উত্তরস্বাধীন বাংলাদেশে জাতিসত্তার প্রশ্নে পাকিস্তান প্রেমের প্রত্নস্মৃতি কখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে, কখনও রাষ্ট্রধর্মের বাতাবরণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অবসিত করার অপপ্রয়াসও নেওয়া হয়েছে—তবু আজ মুক্তিযুদ্ধে জাগ্রত চেতনাপ্রবাহই বাঙালি-সমাজরে মুখ্য সমাজচেতনা। এখন বাঙালি বাঙালির শাসক; রাষ্ট্রক্ষমতার জগতে কিংবা চাকুরি ও ব্যবসার জগতে স্বজাতিভুক্তরাই পরস্পরের প্রতিপক্ষ কিংবা প্রতিযোগী। এর মধ্যেও আছে শ্ৰেণীদ্বন্দ্ব- সমাজদ্বন্দ্বেরই অনিবার্য অংশ হয়ে। অন্তত ঔপনিবেশিক সমাজের স্থবিরতা ও হীনমন্যতা থেকে বাঙালি সমাজ আজ মুক্ত ও স্বাধীন। বাংলদেশের স্বাধীনতার সূত্রে প্রাপ্ত এরই সুফল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার এক নিগূঢ় প্রেরণা।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.