বাংলায় 'নারী'র প্রতিশব্দ : অর্থের সীমা ও ব্যাপ্তি
Abstract
বাংলা ভাষায় ‘নারী' শব্দের অনেকগুলো প্রতিশব্দ চালু রয়েছে। 'প্রতিশব্দ' বলতে আমরা সমার্থক বা প্রায়-সমার্থক শব্দকে বুঝব, যেগুলো কোনো-না-কোনোভাবে নারীসত্তাকেই নির্দেশ করে। 'নারী' বলতে পুরুষের বিপরীত বা পরিপূরক জীবাত্মা এবং কয়েকটি ধ্বনি বা বর্ণের সমবায়ে গঠিত একটি শব্দ উভয়কেই বোঝানো হচ্ছে। শিরোনামের 'বাংলা' দুটি রূপের মধ্যে বিরোধার্থক নয়; সেই বিবেচনায় অভিধান, সাহিত্য, অঞ্চল বা সমাজ – এগুলোকেও আমরা আলোচনার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছি। তবে এই বিশ্লেষণ মূলত আবর্তিত হয়েছে শব্দের অর্থকে কেন্দ্র করে; পদ্ধতিগতভাবে তাই অর্থবিজ্ঞানকে প্রধান অবলম্বন করা হয়েছে। এই ভাষার লেখ্য ও কথ্য অভিধানে ইংরেজি Synonym শব্দের সংজ্ঞার্থ দেওয়া হয়েছে এভাবে : প্রতিশব্দ সমার্থশব্দ; a word having the same meaning with another. (আশুতোষ, ১৯৬৩ : ১২৯৩)। হুমায়ুন আজাদ Synonym-এর বাংলা পরিভাষা করেছেন ‘সমার্থশব্দ' এবং ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে : সমার্থকতা বা Synonym বলতে বোঝায় 'সম বা অভিন্ন বা একই অর্থ' । প্রতিটি ভাষায় বহু শব্দ রয়েছে যেগুলো, সব সময় না হলেও, অনেক সময় একই অর্থ প্রকাশ করে। ওই শব্দগুলো পরস্পরের সমার্থক; তাই সেগুলোকে বলা হয় সমার্থশব্দ (১৯৯৯ : ৪২)। যেমন; কন্যা, মেয়ে, দুহিতা, আত্মজা, দুলালী ইত্যাদি; পানি : জল, নীর, অম্বু, উদক ইত্যাদি । 'নারী'র বিকল্প শব্দগুলোকে আমরা ‘প্রতিশব্দ' বা 'সমার্থক শব্দ' বলছি। যদিও এরকম বলা হচ্ছে, কিন্তু আদতে কোনো শব্দই অন্য শব্দের পুরো সম-অর্থক হতে পারে না; এমনকি, একটি শব্দকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করার ক্ষমতাও অন্য শব্দের নেই । শব্দের অর্থ-ধারণ ক্ষমতা এবং এর বিস্তার, সংকোচন কিংবা রূপ ও রূপান্তরের ক্ষমতা সত্যিকারভাবেই বিস্ময়কর। কালিক বিবর্তনে শব্দের অর্থ-পরিবর্তনের সমস্ত সম্ভাবনাকে মেনে নিয়েই বলা যায়, কোনো কালের ভাষাও কখনও কখনও একটি শব্দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান অর্থকে ধারণ করতে পারে না। সহজাতভাবেই অনেক শব্দ একাধিক অর্থ ধারণ করে ।
Downloads
Downloads