বাল্মীকির অলঙ্কারপ্রয়োগে চমৎকারিতা
Abstract
মানুষ সৌন্দর্যপ্রিয় এবং সৃষ্টিশীল। নানাবিধ নান্দনিক স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চিত্রকলা প্রভৃতি তার সৌন্দর্যপ্রিয়তা ও সৃষ্টিশীলতার পরিচয়বাহী। গুহাগাত্রে গুহামানবের আঁকা ছবির মধ্যে রয়েছে একই প্রেরণা। একদা কোনো অরণ্য-মানব তার প্রিয় মানবীর নিরাবরণ নিরাভরণ দেহে পল্লব বল্কল ফুলের যে আবরণ-আভরণ তুলে দিয়েছিল তার মধ্যেও ছিল একই উদ্দীপনা। কালান্তরে সেই চিত্রণ আবরণ আভরণের অনেক রূপান্তর ঘটেছে, কিন্তু মনোভূমিতে রয়ে গেছে একই প্রেরণা, একই উদ্দীপনা। সেদিনের অরণ্য-মানবীকে সাজিয়ে অরণ্য-মানবের চোখে যে মুগ্ধতা ছিল আজকের সুবেশা তরুণীর দিকে কোনো তরুণের চোখেও দেখা যায় একই মুগ্ধতা। দৈহিক এবং বাহ্যিক এই সজ্জীকরণই কেবল নয়, মানুষ তার কথাকেও সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দর করে বলতে চায়। এটা তার স্বতঃ আন্তর প্রেরণা। এক্ষেত্রে সাধারণ এবং পরিশীলিত মানুষ উভয়ের মধ্যে ক্রিয়াশীল সমপ্রবণতা। বক্তব্যে পারস্পরিক শব্দবন্ধন এবং তার মধ্যে অর্থদ্যোতনা সৃষ্টিতে কবি-সাহিত্যিকদের সযত্ন প্রয়াস অধিক লক্ষিত। হার বলয় নূপুরাদি অলঙ্কারে সজ্জিত করে দৈহিক রূপকে যেমন অপরূপ করা হয় তেমনি উপমা রূপক যমকাদি অলঙ্কারে মণ্ডিত করে কবি তার কাব্যদেহকে ‘শোভাতিশয় করেন। বিভিন্ন যুগে আলঙ্কারিকেরা অলঙ্কারের সংজ্ঞার্থ নির্ণয়ে প্রয়াসী হয়েছেন।
Downloads
Downloads