আবদুল হকের সাহিত্যভাবনা : একটি পর্যালোচনা
Abstract
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে আবদুল হক (১৯১৮-১৯৯৭) শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে আছেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের তাত্ত্বিক পুরুষ ও মননশীল লেখক হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। যে সকল প্রগতিপন্থী লেখক-সমালোচক বাঙালিমানসকে আর্থ-সামাজিক-রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি দেবার প্রয়াসে লেখনী ধারণ করেন আবদুল হক তাঁদের অন্যতম। তিনি শাসকগোষ্ঠী ও তাদের দোসরদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে একের পর এক লেখা প্রকাশ করেন। যেগুলো কখনো স্বনামে কখনো বেনামে প্রকাশিত হয়। এসব রচনা শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতার ভিত্তিমূলকে নাড়িয়ে দেয় ৷ পাশাপাশি লেখেন মৌলিক রচনাসমূহ কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও নাটক। সাহিত্যের সমৃদ্ধি সাধনে অনুবাদ করেন বেশ কিছু বিদেশি নাটক। আবদুল হকের সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধসমূহের মূল সুর বাংলা সাহিত্যকে একটি উন্নত স্তরে নিয়ে যাওয়া; বাঙালি জাতিকে সাংস্কৃতিক মুক্তির আস্বাদ দেওয়া। অবশ্য সাহিত্যের মূল্যায়নধর্মী অনেক রচনাও তাঁর রয়েছে। তবে তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব হলো - জাতীয়তাবাদভিত্তিক রচনাসমূহ। এগুলোর কারণে মাসিক সমকাল (১৯৫৭) ও এর সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৮-১৯৭৫) একাধিকবার বিপদ বরণ করেন। সমকাল-এর ১৩ বছরের (১৯৫৭-১৯৭১) জীবনকালে অন্তত ৪টি সংখ্যা সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়। একটি আবুল ফজলের, দুটি আবদুল হকের এবং একটি হাসান হাফিজুর রহমানের লেখার জন্য। সাহিত্য ক্ষেত্রে আবদুল হকের আগমন ‘কে ও' (১৯৩৮) নামক কবিতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। ছিন্ন পত্রিকার কাহিনী ও রোকেয়ার নিজ বাড়ী নামক তাঁর দুটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয় যথাক্রমে ১৯৬৭ ও ১৯৮১ সালে। একাধিক উপন্যাস লেখার নমুনা পাওয়া গেলেও কালো মুখোশ নামক একটি রচনা প্রকাশিত অবস্থায় পাওয়া যায়। নাট্যকার হিসেবেও তাঁর বেশ পরিচিতি ছিল। আবদুল হকের প্রথম প্রকাশিত নাটক অদ্বিতীয়া (১৯৫৬)। এরপর ফেরদৌসি (১৯৬৪) ও সোনার ডিম (১৯৭৬) প্রকাশিত হয় । বাংলা সাহিত্যের অপেক্ষাকৃত অনুন্নত শাখা নাট্যসাহিত্যের সমৃদ্ধি সাধনে তিনি অনুবাদ করেন হেনরিক ইবসেন ও রবার্ট শেরউড।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2014 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.