হাসান হাফিজুর রহমানের একুশে ফেব্রুয়ারী
Abstract
'একটি মহৎ দিন হঠাৎ কখনো জাতির জীবনে আসে যুগান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে । পূর্ব পাকিস্তানের ইতিহাসে একুশে ফেব্রুয়ারী এমনি এক যুগান্তকারী দিন । শুধু পাক-ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে নয়, একুশে ফেব্রুয়ারী সারা দুনিয়ার ইতিহাসে এক বিস্ময়কর ঘটনা।'- এই কথাগুলো দিয়ে সূচিত হয়েছে হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২-১৯৮৩) সম্পাদিত একুশের প্রথম সংকলনগ্রন্থ একুশে ফেব্রুয়ারী-র ভূমিকাংশ। বাঙালি জাতির জাতীয়তাবোধের প্রথম সার্থক স্বাক্ষর ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালিকে মুক্তি দিয়েছিল দীর্ঘ দিনের আত্মপরিচয়ের সংকট থেকে। এবং ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই একুশে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নিহিত ছিল বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনের বীজমন্ত্র। জাতি হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য যে আত্মজাগরণ ও আত্মআবিষ্কারের প্রয়োজন, বাঙালি প্রথম তা অনুধাবন করে তার ভাষাচেতনার মধ্য দিয়ে; খুঁজে পায় জাতীয়তাবোধের মৌল সূত্র ভাষা। বাঙালি জাতি নিঃসন্দেহে একটি ভাষাভিত্তিক জাতি। আর তার জাতীয়তাবাদী চেতনার সূচনাবিন্দু ১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি। এই দিন একই সঙ্গে বাঙালির আত্মত্যাগ ও আত্মজাগরণের দিন। জাতিগত অধিকার আদায়ের পথ কখনোই মসৃণ ছিল না বাঙালির জন্য। সেই অধিকার আদায়ের সংগ্রামে রাজপথে প্রাণ দিতে হয়েছিল বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ আরও অনেককে। তাঁদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। মৃত্যুই বহন করে আনে লক্ষ কোটি প্রাণের বার্তা। বাঙালি মুসলমানের মধ্যবিত্ত স্তরে আরোহণ-পর্বে যখন সে বাঙালি না মুসলমান এই দ্বন্দ্বে হচ্ছিল ক্ষত-বিক্ষত, সেই সংকট-সন্ধিতে সে পেয়ে যায় তার আত্মপরিচয় - সে বাঙালি, তার ভাষা বাংলা। সে জেনে নিল - বাংলা তার সত্তার কত গভীরে, কত নিবিড়ভাবে ছড়িয়ে আছে অস্তিত্বের সমগ্রটা জুড়ে। ১৯৫২ সালের এই রক্তিম অথচ প্রাণদায়িনী একুশে ফেব্রুয়ারির এক বছর পর ১৯৫৩ সালে একুশের শোক, ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও সামূহিক সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত হল একদল দুঃসাহসী তরুণের রক্তের অক্ষরে লেখা সাহিত্য-সংকলনগ্রন্থ একুশে ফেব্রুয়ারী ঐ সম্পাদক হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্বটি পালন করেন পঞ্চাশের দশকের অন্যতম প্রধান কবি হাসান হাফিজুর রহমান।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2015 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.