পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাসে ফ্রয়েডীয় প্রভাব
Abstract
পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৩৬) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসের ধারায় নানা স্বাতন্ত্র্য ও বিশিষ্টতার দাবিদার। অচ্যুত গোস্বামীর বিবেচনায় এ গ্রন্থটি “মানিকবাবুর শিল্প হিসাবে সবচেয়ে সার্থক বই।” (অচ্যুত, ১৯৬৮ : ৩৫৯) আবুল ফজলের মতে পুতুলনাচের ইতিকথা “আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কীর্তি ।” তাঁর উপলব্ধি : “বিংশ শতাব্দীর বাংলা উপন্যাস অনেকখানি এগিয়ে গেছে সত্য, কিন্তু মনে হয় পুতুলনাচের ইতিকথা আজো রয়ে গেছে অনতিক্রম্য।'' পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাসেই মানিক প্রথম তাঁর ফ্রয়েডীয় তত্ত্বাশ্রিত জীবনকথাকে যথার্থ দেশ-কাল-পরিপ্রেক্ষিতে পরিপূর্ণভাবে স্থাপন করেছেন। দিবারাত্রির কাব্যে মানিক মানুষের এক এক টুকরো মানসিক অংশ নির্মাণ করে দেখিয়েছেন: তাদের যাপিত জীবনব্যাখ্যায় ফ্রয়েড কতোটা প্রাসঙ্গিক; পদ্মানদীর মাঝিতে আঞ্চলিক জীবনচিত্র এঁকে দেখিয়েছেন: সেখানেও ফ্রয়েডীয় জীবনব্যাখ্যা কার্যকর; তারপর যথার্থ দেশ-কাল- পরিপ্রেক্ষিতে পুতুলনাচের ইতিকথা নির্মাণ করে ওই জীবন বিশ্লেষণ করে দেখিয়ে দিলেন: ফ্রয়েডীয় লিবিডোই অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে মানুষকে পুতুল নাচ নাচায়। দিবারাত্রির কাব্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ফ্রয়েডীয় তত্ত্বকে যান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ করেছেন, পদ্মানদীর মাঝিতে ফ্রয়েড দারিদ্র্যলাঞ্ছিত জনজীবনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাসঙ্গিক হলেও গৌণ; পুতুলনাচের ইতিকথায় বহুধাবিভক্ত উপকাহিনীর ভিড়ে ফ্রয়েড কেন্দ্রীয় চরিত্রদুটির প্রধান নিয়ামক শক্তি। অচ্যুত গোস্বামীর মতে বাংলা উপন্যাসের ধারায় পুতুলনাচের ইতিকথাই প্রথম গ্রন্থ, যেখানে ফ্রয়েডীয় অবচেতন মনের 'প্রথম সার্থক চিত্রায়ণ' ঘটেছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2015 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.