রবীন্দ্রদৃষ্টিতে মহামানব ও মুক্তি
Abstract
বর্তমান সময়ে নানা কারণে পীড়িত আমরা। নিজের একটি সুস্থ সুন্দর সম্মানজনক অবস্থান আমাদের চাই। মানুষ যখন বুঝতে পারে যে সে সুস্থ নয়, তখন সে নিজেই সুস্থতার জন্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে পারে। জীব জগতের মধ্যে মানুষই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আত্মচেতনাসম্পন্ন প্রাণী। তার ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা আছে, কল্পনাশক্তি আছে, আছে অমিত ইচ্ছাশক্তি। ইচ্ছা বা চিন্তা হলো মানুষের সূক্ষ্মতম ও উচ্চতম ক্রিয়া। মানুষই একমাত্র আত্মিক বোধসম্পন্ন প্রাণী। দার্শনিক ফিলালাউসের (৪৭৫ খি পূ.) মতানুসারে, মানুষের তিনটি আত্মা : উদ্ভিদ-আত্মা, প্রাণী-আত্মা ও চেতনা-আত্মা। ‘প্রত্যেক আত্মার উদ্দেশ্য আছে। বিশুদ্ধতায় পৌছানোই সকল আত্মার মূল উদ্দেশ্য । উদ্ভিদ-আত্মার উদ্দেশ্য বৃদ্ধি, প্রাণী-আত্মার উদ্দেশ্য চলন এবং চেতনা-আত্মার উদ্দেশ্য ধ্যান। চেতনা-আত্মার বিশুদ্ধতা নির্ভর করে আরও বেশি বিশুদ্ধ কিছু অর্জন করার প্রচেষ্টার মাধ্যমে' (শহিদুল, ২০০৩ : ২৯)। গভীর সচেতন সাধনাতেই এই শুদ্ধতা আসে। সচেতনতাই আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে জাগ্রত রাখে। সচেতন হওয়ার মাত্রার উপর নির্ভর করে মানুষ হিসেবে বাঁচার সার্থকতা। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘আমাদের অধিকাংশই অচেতন, একটুখানি সচেতন মাত্র। আমরা একটা প্রকাণ্ড জড়, তাহারই মধ্যে একরত্তি চেতনা বাস করিতেছে । আত্মার নিদ্রাই জড়ত্ব এবং জড়ের চেতনাই আত্মার ভাব (রবীন্দ্রনাথ, ২০১২ : ৩২)। সচেতনতার আরেক অর্থ হতে পারে আলোকচেতনা। এই চেতনাকে নিয়েই মানুষকে পথ চলতে হয়। আমরা শৈশব থেকেই এই সচেতনতাকে নিয়েই পথ চলি। এজন্য শৈশবে শিক্ষারম্ভকালে সর্বপ্রথম শিশু তার নিজের নাম লেখার চেষ্টা করে, পৃথিবীতে তার অবস্থানকে জানাতে চায়। এই সচেতনতার বিস্তার ঘটানোর জন্য আমাদেরকে সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হয়। নাইজেরিয়ার লেখক চিনুয়া আচিবি (১৯৩০-২০১৩) বলেন, 'আমাদের একটি নীতি- আদর্শ থাকতে হবে। যদি নীতি-আদর্শ না থাকে তবে সমাজ ধ্বংস হবে। কাজেই এই কল্পনাদৃষ্টি, নীতি-আদর্শ অথবা যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন তা দরকারি।... প্রত্যেক ব্যক্তিকে জ্ঞান এবং অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই কল্পনাদৃষ্টি অর্জনে সাহায্য করতে হবে' (শহিদুল, ২০১৫ : ৫)।
Downloads
Downloads