বাঙলা সাহিত্যে উপাখ্যান : গুলে বকাওলী
Abstract
মধ্যযুগের বাঙলা সাহিত্যে উপাখ্যান ও রোমান্সের সূত্রপাত মুসলমানদের হাতেই হয়, এ নিয়ে এখন আর বোধহয় দ্বিমত নেই। হিন্দু-রচিত কাহিনীর সঙ্গে মুসলমান লেখকদের ‘কিস্সা'র মৌলিক তফাৎ : দেবদেবীর মাহাত্ম্য বর্ণনা- প্রসঙ্গে মুকুন্দরাম বা ভারতচন্দ্র কাহিনীর অবতারণা করেছেন, শিল্পসৃষ্টি বা মনোরঞ্জনের জন্য নয়। ক্লাসিকাল সংস্কৃত সাহিত্যের বাসবদত্তা বা কাদম্বরীর মত বর্ণনা ও ঘটনামূলক প্রেমোপাখ্যানেরও কোনও রূপায়ণ মধ্যযুগের বাঙলা সাহিত্যে পাওয়া যায়না। শুধু বাঙলাতেই কেন, মধ্যযুগের অন্য কোনও ভারতীয় ভাষাতেই পাওয়া যায় না। যতদূর জানা গেছে, একমাত্র তেলেগু ভাষাতেই তেরো শতকে দণ্ডীর দশকুমার চরিতের একটি পদ্যানুবাদ হয়। বত্রিশ সিংহাসন-পঞ্চতন্ত্রের মত উপকথাগুলিও কোনও সংস্কৃতেতর ভাষায় মুসলমান আমলের আগে লেখা হয়নি। পৌরাণিক কাহিনী বা জৈন আচার্য-তীর্থঙ্করদের জীবন-মাহাত্ম্য নিয়ে তামিল ও প্রাকৃত-গুজরাটিতে কাব্য বা 'রসবন্ধ' রচিত হয়েছে সত্য, এবং তাতে কিছুটা রোমান্টিক উপাদানও আছে, কিন্তু এর প্রত্যেকটিই ধর্মমূলক। প্রাচীন সংস্কৃতের ধারায় প্রণয়াবেগ নিয়ে অপভ্রংশে যে প্রথম ধর্মোদ্দেশনিরপেক্ষ বিশুদ্ধ কাব্য রচনা হয়েছিল, তার কবি বার শতকের মুসলমান; মুলতানের অধিবাসী, তন্তুবায় মীর হসনের পুত্র আবহর রহমানের প্রাকৃত কাব্য ‘সন্দেশ-রাসক' সংস্কৃত দূত-কাব্যের অনুকরণ হলেও বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে ভারতীয় 'ভাষা'-সাহিত্যে নতুন পদক্ষেপ।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1957 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.