বাংলার ব্যঞ্জনধ্বনি

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v1i2.3

Authors

  • মুহম্মদ আবদুল হাই University of Dhaka Author

Abstract

বাজারে প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণগুলোতে ট বর্গীয় ধ্বনিকে মূর্ধন্য ধ্বনি বলে আখ্যাত করা হয়েছে। তাদের সংজ্ঞা অনুসারে এ ধ্বনিগুলোর উচ্চারণস্থান মূর্ধা। মানুষ মাত্রেরই শৈশবে মাথার খুলির ওপরের দিকের যে অংশটি তুলতুল করে এবং শক্ত হতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে—এমন কি পরিণত বয়সেও মাথার খুলির অন্যান্য অংশের তুলনায় যে অংশটি অপেক্ষাকৃত কম শক্ত, সেখানটিতে পেরেকজাতীয় কোন শক্ত বস্তু দিয়ে সোজাসুজি বিদ্ধ করলে সেটি তালুর যে অংশকে ভেদ করে ফুটে বেরুবে সাধারণত সেটিকেই আমরা মূর্ধা বলে জানি। অন্যভাবে দেখতে গেলে শক্ত তালুর যেখানে হচ্ছে শেষ আর নরম তালুর হচ্ছে সূচনা—শক্ত ও নরম তালুর সেই সঙ্গমস্থলকেই ধ্বনিবৈজ্ঞানিকেরা মুর্ধা নামে অভিহিত করে থাকেন। যেসব ধ্বনি জিভের সংস্পর্শে মানুষের মুখবিবরের এ অংশ থেকে কিংবা তার সামান্য কিছু আগে শক্ত তালুর মাঝখান থেকে উত্থিত হয়, সে গুলোকেই মুর্খানিঃসৃত ধ্বনি তথা মূর্ধন্য (cerebral cacuminal, retroflex) নামে অভিহিত করা উচিত। কিন্তু প্রশ্ন হলো পূর্ব ও পশ্চিম বাংলার এমন কোন বাঙালী আছেন কি যিনি এ ধরণের মুর্ধা থেকে ট বর্গীয় ধ্বনিগুলো উচ্চারণ করেন? পাক-ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন ভাষার এ মূর্ধণ্য (?) ধ্বনিগুলোর একটি ইতিহাস আছে ৷ একালের ঐতিহাসিক পদ্ধতির ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনায় প্রমাণিত হয়েছে যে এ ধ্বনিগুলো ‘Proto Dravidian' বা দ্রাবিড়পূর্ব যুগের ধ্বনি। দ্রাবিড় পূর্ব যুগ থেকে এ উপমহাদেশের বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীতে এ ধ্বনিগুলো 'borrowed' বা কৃতঋণ ধ্বনি। তবে এ কথা সত্য যে এগুলোকে যে কারণে মূর্ধণ্য ধ্বনি বলা হয় তা দক্ষিণ ভারতের দ্রাবিড় গোষ্ঠীভুক্ত ভাষা তামিল, তেলেগু, মালায়ালম ও কানাড়াতে এবং উত্তর ভারতের আর্যগোত্রভুক্ত মারাঠীতে যে ভাবে অক্ষুণ্ণ আছে এ উপমহাদেশের অন্য কোনো ভাষাতে তেমন নেই। বাংলাতে তো নেই-ই। তামিল, তেলেগু প্রভৃতি দ্রাবিড় ভাষীরা একালেও শব্দের মধ্যে এদের অবস্থান অনুসারে শক্ত ভালু (hard palate) র মধ্যবর্তী অংশে কিংবা তার কাছাকাছি শক্ত তালুর শেষ এবং পশ্চাত্তালু ( soft palate) র সূচনাস্থলে মুচড়ে ধরে ট বর্গীয় ধ্বনিগুলোকে উচ্চারণ করে থাকেন। মারাঠী ভাষার সতার উপভাষাতে এ ধ্বনিগুলো যে শক্ত তালুর শেষ প্রান্ত থেকে জাত খাঁটি মূর্ধণ্য ধ্বনি তা গবেষণাগারে কৃত্রিম তালুর সাহায্যে পরীক্ষা করে দেখা গেছে। ফলে তাঁদের মুখনিঃসৃত ‘ট’, ‘ড’, 'ড়', প্রভৃতি ধ্বনিগুলোর যে ব্যঞ্জনা শোনা যায় তা স্বচ্ছ ও হালকা নয়, রীতিমতো আড়ষ্ট ও গম্ভীর।

Downloads

Download data is not yet available.
cover

Downloads

Published

1957-12-16

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

বাংলার ব্যঞ্জনধ্বনি . (1957). সাহিত্য পত্রিকা, 1(2), 21-55. https://doi.org/10.62328/sp.v1i2.3