লায়লী-মজনু
Abstract
কয়েকমাস হল বাংলা একাডেমীর প্রাচীন সাহিত্য সংরক্ষণ গ্রন্থমালার প্রথম বই দৌলত উজীর বাহরাম খান-বিরচিত কাব্যগ্রন্থ “লায়লী-মজনু” প্রকাশিত হয়েছে। এই কাব্যটির সন্ধান দেন মরহুম আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ এবং তাঁরই সংগৃহীত ও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত চারটি পুথি অবলম্বনে বর্তমান সংস্করণ প্রস্তুত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের গবেষণা সহায়ক হিসেবে অধ্যাপক আহমদ শরীফ এই কাব্য সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন করেছেন। লায়লী-মজনুর প্রণয়কাহিনী সর্বজনবিদিত। এই কাব্যের পাত্র-পাত্রী যদিও আরব দেশবাসী বলে কথিত হয়েছেন, তবু আরবী সাহিত্যের ইতিহাসে এই উপাখ্যানের উল্লেখ দেখা যায় না। ফার্সী সাহিত্যে লায়লী-মজনু কাব্যের প্রথম রচয়িতা হিসেবে আমরা যাঁকে জানি, তিনি হচ্ছেন নিজামী (১১৪১–১২০৩ খৃঃ )—যিনি ‘খুসরৌ ও শিরি” ‘লায়লা ও মজনু ” ‘হফ ত পয়কর' এবং ‘ইসকান্দর নামা' লিখে বিখ্যাত হয়েছিলেন। তবু নিজামীর বহু পূর্বে খৃষ্টীয় দশম শতকের ফার্সী কবি রুদাগীর কবিতায় লায়লা-মজনুর উল্লেখ আছে : একথা আমরা অধ্যাপক রিউবেন লেভী-রচিত Persian Literature গ্রন্থটি থেকে জানতে পারি। অতএব, এই উপাখ্যানের বয়স যে বাংলা সাহিত্যের বয়সের সমান, এতে সন্দেহ নেই। তবু অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বাংলায় একটিমাত্র লায়লী-মজনু কাব্যেরই সন্ধান আমরা পেয়েছি, আর সেই কাব্যরচনার গৌরব অর্জন করেছেন কবি বাহরাম খান। যে যুগের আদর্শ ছিল মিলনান্ত কাব্য রচনা, সে যুগের কবি হয়েও বাহরাম খান বিয়োগান্ত কাব্য রচনা করে নিজের কবিপ্রতিভার মৌলিকতা দেখিয়েছিলেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1957 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.