ঊনিশ শতকের সাহিত্যপত্র ও মুসলিম-মানস
Abstract
ঊনবিংশ শতাব্দীর 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে আজকের 'নতুন সাহিত্য' বা 'সমকাল' পত্রিকাই যে আধুনিক বাংলা সাহিত্য সৃষ্টির প্রধান বাহন এ সম্পর্কে বোধকরি এখন তর্কের অবকাশ নেই। ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙ্গালী মুসলমান, বিশেষকরে শিক্ষিত বাঙ্গালী মুসলমানরাও এ বিষয়ে সচেতন ছিলেন যে সাহিত্যের বিকাশ ছাড়া সমাজ জাগে না, আর সাহিত্য সৃষ্টির জন্য দরকার হয় পত্রিকা। তাঁদের এ সচেতনতার ফল হিসেবেই ইসলাম প্রচারক, প্রচারক, মিহির, হাফেজ, কোহিনুর, হিতকরী, নুর-অল-ইমান প্রভৃতি পত্রিকা এককালে দেখা দিয়েছিল, সমাজ মানসে জাগিয়েছিল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল আমাদের আজকের সাহিত্যের ঐতিহ্য। হাফেজের প্রথম সম্পাদকীয়তে লেখা হয়—“আমাদের মুসলমান ভ্রাতাগণ হাফেজ প্রাপ্ত হইয়া জাতীয় গৌরবের চিহ্ন মনে করিয়া প্রতিপ্রফুল্ল মনে ইহার উন্নতি সাধনে চেষ্টা করিবেন বলিয়া আমাদের বেশ বিশ্বাস জন্মিয়াছে, তাই আমরা, আজ এই দুদিনে হাফেজ বাহির করিয়া মুসলমান ভ্রাতাগণের হস্তে অর্পণ করিয়া নিশ্চিত্ত রহিলাম। সকলে মিলিয়া সামাজিক কাৰ্য্য মনে করিয়া হাফেজের উন্নতি সাধনে যত্নবান হইবেন; ইহাই একান্ত অনুরোধ।” কোহিনুর প্রকাশের পর গ্রাহক সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সম্পাদকের এক আবেদন-পত্রে বলা হয়—“নানা কারণে সাহিত্যচর্চ্চা বিষয়ে বঙ্গীয় মোসলেম সমাজের ঘোর অবনতি দৃষ্টিগোচর হইতেছে। সমাজের দুর্গতি-স্রোত অবরোধ না করিতে পারিলে জাতীয় উন্নতি সম্ভবে না। আবার নূতন নূতন পত্রিকার প্রচার ভিন্ন সমাজের অবনতিস্রোত অবরোধ সুদূর পরাহত। স্বার্থ- পরতা এবং একতাহীনতাই সমাজের সাহিত্যিক দুর্গতির মূলীভূত কারণ। আবার সাহিত্যিক দুর্গতিই আমাদিগকে অবনতির দিকে লইয়া যাইতেছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1958 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.