সৈয়দ হামজা ও তাঁর কাব্য
Abstract
নবাবী আমলের বাংলা দেশে ফারসী (ও পরে উর্দু) ভাষার ক্রমবর্ধমান প্রভাবে বাংলা ভাষায় বিদেশী শব্দের প্রয়োগ বৃদ্ধি পায়। নগরে ও বন্দরে এই মিশ্রণ ঘটেছিল সবচেয়ে বেশী আর এইসব নগর-বন্দরের অল্পশিক্ষিত কবিদের হাতে কোম্পানী আমলের শুরুতে বিদেশী শব্দবহুল ভাষায় কাব্যরচনার একটা রীতি গড়ে ওঠে, যাকে আমরা মিশ্র ভাষারীতি আখ্যা দিতে পারি। বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে এরা তাই অবলম্বন করেছিলেন, কোন কোন লেখক যাকে matter of Perso - Arabic world বলে অভিহিত করেছেন। এই নিরবস্তু অবশ্য অনুকৃত হয়েছিল শাহ মুহম্মদ সগীর (পঞ্চদশ শতাব্দী) থেকে শুরু করে হায়াৎ মামুদের ( অষ্টাদশ শতাব্দী ) রচনায়—রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, ছদ্ম-ঐতিহাসিক যুদ্ধকাহিনী, পীর মাহাত্ম্যজ্ঞাপক পাঁচালী বা শাস্ত্রকথার অনুবাদ-অনুসরণে। তবে নবাবী আমলের শেষে ও কোম্পানী আমলের প্রথমে মিশ্র ভাষারীতির কবিদের হাতে এই বিষয়বস্তু প্রধান ও প্রকট হয়ে উঠেছিল। ভাষাগত দিক দিয়ে আমরা বলতে পারি যে, কৃষ্ণরাম দাসের (সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ) ‘রায়মঙ্গলে অথবা রামাই পণ্ডিতের লেখা বলে কথিত 'শূন্যপুরাণে বিদেশী শব্দবহুল ভাষার ব্যবহার দেখা যায় : তবে সমগ্র কাব্যে এই ভাষা ব্যবহারের প্রথম কৃতিত্ব হুগলীর বালিয়া-হাফেজপুর নিবাসী ফকির গরীবুল্লাহর ( আনুমানিক অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধ) প্রাপ্য।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1958 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.