লোকলোর-সম্পর্কিত প্রচলিত মতবাদ
Abstract
ঊনবিংশ শতাব্দীর তুলনায় বিংশ শতাব্দীর লোকলোর ' সম্পর্কিত পঠনপাঠন অনেক স্থিতিশীলতা এবং সাবধানী চিন্তাধারা অর্জনে সমর্থ হয়েছে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় লোকলোরবিদগণের অবিন্যস্ত ও আজগুবি আলোচনার একটি মাত্র বাক্যে লোকলোর-এর সংজ্ঞা দেয়া প্রায় অসম্ভব। তবে পাঠকের একটি মোটামুটি ধারণাসৃষ্টির জন্য বলা যায়, অশিক্ষিত জনসাধারণ পূর্বপুরুষদের নিকট থেকে মুখে মুখে শুনে বা চোখে দেখে যা শেখে তার একটি বিশেষ দিককেই ইংরেজীতে Folklore বলা হয়। অবশ্যি এ শিক্ষা সামগ্রিক শিক্ষা নয় – প্রধানত দুই জাতীয় শিক্ষা—এক, অশিক্ষিত জনসাধারণের জীবনযাত্রার নিত্য ব্যবহার্য জিনিষপত্র, নানাপ্রকার উপকরণ, ঘরবাড়ী ইত্যাদি প্রস্তুত করা ; দুই, তাদের মনন থেকে উৎসারিত সৃষ্টি যা রূপায়িত হয় লোককাহিনীতে (পৌরাণিক কাহিনী, কিংবদন্তী, রূপকথা, প্রাণীবাচক কাহিনী ইত্যাদি ), হেঁয়ালীতে, প্রবাদে, ছড়ায়, গীতিকায়, সংগীতে, সংস্কারে, বিশ্বাসে, উৎসবে, আচারে এবং এই জাতীয় আরো অনেক কিছুতে । প্রথম জাতীয়কে ইংরেজীতে বলা হয় Material Folklore, দ্বিতীয়কে Formalised or Spiritual Folklore—এই দ্বিতীয় পর্যায় বাংলায় লোকসাহিত্য নামে পরিচিত। বাংলায় Folklore শব্দটির পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ সম্ভব নয় বলেই Folk অর্থে লোক এবং অশিক্ষিত মানুষের মুখে মুখে বা দেখে দেখে অর্জিত শিক্ষা এই অর্থে Lore (লোর) শব্দদ্বয়কে মিলিয়ে আমি লোকলোর শব্দটি ব্যবহার করেছি। ইংরেজীতে দুই শব্দের সমন্বয়ে Folklore শব্দটি সৃষ্ট, Folk এবং Lore. এ সম্পর্কে আমার প্রাথমিক আলোচনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের গবেষণা পত্রিকা * সাহিত্যিকী, ২য় সংখ্যায় (১৩৭২) প্রকাশ পায়। বিস্তারিত আলোচনার জন্য দ্রষ্টব্য মৎপ্রণীত গবেষণাগ্রন্থ 'পাকভারতীয় লোককাহিনী সংগ্রহের ঐতিহাসিক পর্যালোচনা ষ্টুডেন্টওয়েজ, ঢাকা, ১৯৬৮ (১ম অধ্যায়ের পরিশিষ্ট)। এ ছাড়া দ্রষ্টব্য “মাহে নও', পাকিস্তান দিবস সংখ্যা, ১৯৬৮।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1968 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.