ব্যাকরণ বিচিত্রা
Abstract
ব্যাকরণকে এক কথায় বলা যেতে পারে ভাষা-সংবিধান। ব্যবহারিক প্রয়োজনে সংবিধানের যেমন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, ব্যাকরণের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনি। ভাষা ব্যাকরণের দাসত্ব করে না, ব্যাকরণই ভাষার পিছনে পিছনে তার প্রয়োজনীয় এবং পরিবর্তিত গতিপথের দিকে লক্ষ্য রেখে রেখে নিজস্ব নিয়মকানুন গুলিকে সময়-উপযোগী সংশোধন করে নেয়। যে ভাষা ব্যাকরণের বিশেষ গণ্ডীতে আবদ্ধ সে ভাষার সচলতা সম্ভব নয়৷ সংস্কৃত ভাষা আজ তাই মৃত। সেখানে ব্যাকরণই ভাষার প্রয়োজনীয় গতিপথ নির্দেশ করে দিয়েছে। ব্যাকরণের চারটি উঁচু পাড়ে আবদ্ধ সংস্কৃত ভাষা তাই স্রোতোহীন, নিশ্চল। অন্যদিকে বাংলা ভাষা তার সজীবত্ব আজও সমানভাবে বজায় রেখে চলেছে। কারণ, ব্যাকরণের বিশেষ গণ্ডীতে সে নিজেকে সম্পূর্ণ আবদ্ধ করে রাখে নি। ভাষাস্রোত নিত্যনিয়ত গতি-পথ প্রয়োজনে বদলে বদলে চলেছে। ব্যাকরণ চলবে তারই অনুসারী হয়ে। ভাষার উপযোগী সম্পূর্ণ ব্যাকরণ আজও আমাদের তৈরী হয়নি। হওয়াও সম্ভব বা সঙ্গত বলে মনে করি না। কেননা ভাষা পরিবর্তিত হয়ে চলে নানা ভাবে নানা অবস্থার মধ্য দিয়ে। ব্যাকরণ এই বাহ্যিক পরিবর্তনের ব্যবহারিক গতিকে একটা নিয়মে বাঁধতে চেষ্টা করে মাত্র৷ বাংলা ব্যাকরণ রচনার প্রথম প্রচেষ্টা হয়েছিল বিদেশীদের দ্বারা আজ থেকে প্রায় দু'শো চব্বিশ বছর আগে। এরপর বাঙালী পণ্ডিতরা বিভিন্ন সময়ে ব্যাকরণ রচনায় হাত দিয়েছেন সেই রাজা রামমোহন রায়ের আমল থেকে। বাংলা ব্যাকরণ আজ অনেকখানি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আলোচিত-একথা একেবারে অস্বীকার করা।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1968 সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.