সাহিত্য পত্রিকার পঁচিশ বৎসর
Abstract
সাহিত্য পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশের পর পঁচিশ বৎসর উত্তীর্ণ হল। পঁচিশ বৎসর খুব দীর্ঘকাল হয়ত নয় তবু একটি গবেষণা পত্রিকার ক্ষেত্রে পঁচিশ বৎসর পূর্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ সন্দেহ নেই। এই পঁচিশ বৎসর অবশ্য অবিরাম ছিল না; একাধিকবার ছেদ পড়েছে প্রকাশনায়। তা সত্ত্বেও এই পত্রিকা বাংলাদেশের গবেষণা প্রকাশনার ক্ষেত্রে উজ্জ্বলতম পত্রিকা হিসেবে স্বীকৃত ও আদৃত হয়েছে, এ আমাদের সকলের জন্য আনন্দের ও গৌরবের সংবাদ। বাংলা সাহিত্যে উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে ‘সাহিত্য পত্রিকা'র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা পত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে পথিকৃতের দাবীদার অবশ্য বাংলা একাডেমী। ‘বাংলা একাডেমী পত্রিকা' প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় পৌষ ১৩৬৩, জানুয়ারী ১৯৫৭ সালে। বাংলা একাডেমী পত্রিকার প্রথম বর্ষ, প্রথম সংখ্যা প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে ‘কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থানুকূল্যে' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ষান্মাসিক গবেষণা পত্রিকা ‘সাহিত্য পত্রিকার প্রথম বর্ষ, প্রথম সংখ্যা : বর্ষা ১৩৬৪ প্রকাশিত হয়। সম্পাদক : বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আবদুল হাই। ইতিমধ্যে প্রকাশিত ‘বাংলা একাডেমী পত্রিকা'র প্রথম সংখ্যাটির চারিত্র ছিল মূলতঃ প্রবন্ধ পত্রিকার। ‘সাহিত্য
পত্রিকা' প্রকাশের ফলে বাংলায় গবেষণা পত্রিকার যথার্থ উঁচুমান প্রতিষ্ঠিত হল। প্রথম সংখ্যার শুরুতে ‘কৃতজ্ঞতা স্বীকার' শিরোনামে সম্পাদক মুহম্মদ আবদুল হাই লেখেন—
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে এ ধরনের পত্রিকা প্রকাশের এটিই প্রথম উদ্যোগ। আর্থিক সঙ্গতির অভাববশতঃ অতীতে শুধু পত্রিকা কেন, এখানকার কোন গবেষণার ফলই প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। কিছুদিন পূর্বে এ বিভাগের বিবিধ অভাব অভিযোগ সম্পর্কে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব জহীরুদ্দীনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি উদ্যোগী হয়ে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর জন্যে এ বিভাগকে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাহায্য করেন: ১. বাংলা বিভাগের সেমিনার গ্রন্থাগারের সমৃদ্ধি সাধন; ২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সংক্রান্ত বিষয়ে গবেষণা করার জন্যে উপযুক্ত প্রার্থীকে বৃত্তিদান; ৩. পত্রিকা প্রকাশ এবং ৪. গবেষণা প্রকাশের ব্যবস্থা। উক্ত পরিকল্পনা অনুসারে পত্রিকা প্রকাশ করা হলো। অনতিবিলম্বে মরহুম আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ-কৃত মধ্যযুগের বাংলা পুথি-সাহিত্যের বিস্তৃত বিবরণও প্রকাশিত হচ্ছে। এ ছাড়া কবি নজরুল ইসলামের জীবনী ও সাহিত্য বিষয়ে গবেষণা করার জন্যে এ বিভাগের একজন কৃতি ছাত্রকে বৃত্তি দান করা হয়েছে এবং বিভাগীয় সেমিনার গ্রন্থাগারেরও যথেষ্ট উন্নতি সাধন করা হয়েছে। আমার আবেদনক্রমে পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী জনাব জহীরুদ্দীন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতি বিধানের জন্যে এভাবে অর্থ সাহায্য করার ব্যবস্থা করে এ-ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত দরদ ও অকুণ্ঠ অনুরাগ প্রকাশ করেছেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলার জনাব মুহম্মদ ইব্রাহিম আমাদের পরিকল্পনা অনুমোদন করে আমাকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। সে জন্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সেবক এবং বিভাগীয় শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে এই দুই মনীষীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1982 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.