আট বছর আগের এক বিস্ময়কর মৃত্যু

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v25i2.9
Crossmark

Authors

Abstract

‘আট বছর আগের একদিন' কবিতাটি তখনকার সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য-পত্রিকা 'কবিতা'য় চৈত্র ১৩৪৪-এ প্রকাশিত হয়েছিল। জীবনানন্দ দাশ সেই সময় তাঁর জন্মস্থান বরিশালে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করছিলেন। তাঁর স্ত্রী ছিলেন, সন্ততি ছিল, ব্রজমোহন কলেজে চাকুরীও ছিল। এর আট বছর আগে তিনি দিল্লীর রামযশ কলেজ থেকে তাঁর প্রিয়তমা মাতৃভূমি রূপসী বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন। এরকম এক পরিস্থিতিতে উপরোক্ত বিখ্যাত কবিতাটি তিনি ছাপতে দিয়েছিলেন। কবিতার বিষয়বস্তু অত্যন্ত সহজ—একজন লোক আত্মহত্যা করে। তবে আত্মহত্যার কারণ স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সে যা পেতে চেয়েছিলো তা পেয়ে ছিল কি না, তাও আমরা জানতে পারি না। কবিও তা জানেন না। কিন্তু কবিতায় কথা বলতে বলতে তিনি আত্মহত্যা করাকে খানিকটা সমর্থন করেন। যদিও শেষ স্তবকে কবি এর বিপরীত ভাবের প্রকাশ করেন তবুও মনে হয় তিনি নিজেও কিছুটা অনিশ্চিত। এবং তাঁর এই অনিশ্চয়ত৷ কবিতার শেষ অবধি পাঠকের মন দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে। জীবনানন্দের কবিতার সেই মানুষটির শুক্লপক্ষীয় পঞ্চমীর ফাল্গুনের অন্ধকারে মৃত্যুবরণ করার বাসনা হয়েছিল। পরের দিন হচ্ছে ষষ্ঠী, দেবতা ষষ্ঠীর দিন। জীবনানন্দ ব্রাহ্ম ধর্মাবলম্বী ছিলেন, হিন্দু নয়। কিন্তু কবি কোনক্রমেই হিন্দুধর্মের আচার সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন না। ষষ্ঠী শিশুদের দেবতা। তিনি নবজাতককে সৃষ্টিও করেন পালনও করেন। কবিতার পূর্বোক্ত মানুষটি একটি নতুন জীবন সৃষ্টির জন্যও হয়তোব৷ আত্মহত্যা করেছিল। সে নতুন জীবনে প্রত্যাগমন করতে চাইতেও পারে, মানুষ-রূপে নয়, অন্য কোনভাবে। ‘যে-জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের-মানুষের সাথে তার হয় নাকে। দেখা/এই জেনে,' বোধহয়, সে তার মনুষ্য জীবনকে শেষ করে নেয়া স্থির করে। যে গাছে লোকটি নিজেকে দড়ি দিয়ে ঝোলাতে যাচ্ছে সেটা অশ্বত্থ গাছ। সে গাছ আবার বুদ্ধদেবের সঙ্গে জড়িত। একদিন সিদ্ধার্থ গৌতম যখন তাঁর বয়স মাত্র পঁয়ত্রিশের মতন তখন তিনি পৃথিবীতে শোকের উৎস খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত অনশনব্রতের সংকল্প করেন। একটা অশ্বত্থ গাছেরই নিচে তিনি অনশনব্রতী হয়ে বসেন। মার নামে দুষ্কৃত অসুর তাঁর ইন্দ্রিয়বাসনা জাগাবার চেষ্টা করে। তবে গৌতম তাঁর সাধনায় অবিচল থাকেন। অবশেষে অনেক দিনের ধ্যানের পর তিনি জানতে পারলেন ইহলোক দুঃখ-শোকময় কেন, এবং তা থেকে মুক্তি পেতে গেলে, মানুষের কি কর্তব্য। যে মুহূর্তে জানলেন সেই মুহূর্তেই তিনি বুদ্ধ হয়ে যান৷
এক পরিপ্রেক্ষিতে ‘আট বছর আগের একদিন' হচ্ছে জীবনানন্দের ব্যক্তিগতভাবে পুননির্মাণ করা একটা বুদ্ধের গল্প। কবিতায় বুদ্ধের মতন চরিত্রটি কিছু একটা মানসিক কষ্টে ভুগেছিল। এমনও হতে পারে যে কয়েক বছর ধরে সে শান্তভাবে ঘুমোতে পারেনি।

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.

Published

1982-04-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

আট বছর আগের এক বিস্ময়কর মৃত্যু. (1982). সাহিত্য পত্রিকা, 25(2), 163-172. https://doi.org/10.62328/sp.v25i2.9

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%