মুক্তবুদ্ধি, বেগম রোকেয়া ও নারী-অধিকার

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v25i2.6
Crossmark

Authors

Abstract

বেগম রোকেয়ার মৃত্যুর পর রোকেয়ার স্মৃতিতে সমগ্র বাংলার মুসলমান সমাজকে স্বতঃস্ফূর্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে দেখে ১৯৩২ সালের ২৫শে ডিসেম্বরে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য-সম্মেলনে সৈয়দ এমদাদ আলী বলেছিলেন, “ইহা শুধু যুগ-লক্ষণ নহে, ইহা আমাদের জাগরণের লক্ষণ”। তেমনি এই উক্তির সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে আমরাও বর্তমানে তাঁকে সমাজ-সংস্কারক, নারী-শিক্ষা প্রচারক তথা বাংলাদেশের নবজাগরণেরই সূত্রপাতের অগ্রদূতী হিসেবে জাতীয় ভিত্তিতে সশ্রদ্ধ স্বীকৃতি দিতে পারি। সমাজ-সংস্কারক এবং সাহিত্যিক এই দ্বৈত ভূমিকায় বেগম রোকেয়ার সর্বাপেক্ষা লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্যই হল তিনি বুদ্ধিকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন। বুদ্ধির কষ্টিপাথরে যাচাই করে তবেই তিনি য৷ গ্রহণীয় তা গ্রহণ করেছেন এবং যা বর্জনীয় তা বর্জন করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে যে সকল মহান ব্যক্তিত্ব মানব জাতিকে যথার্থ অর্থে সভ্যতার আলোর পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেছেন তাঁদের প্রতিজনকেই সমকালীন সামাজিক কুসংস্কার এবং ধর্মীয় গোঁড়ামীর তমসাচ্ছন্নতা থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে। তাঁদের এই দুঃসাহসী পদক্ষেপ যৎসামান্য হলেও তাঁদের সমাজ ও জাতিকে সভ্যতার পথে কিছুটা যে অগ্রসর করেছে তা নিশ্চিত ভাবেই বলা চলে। বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার সাহায্যে এবং স্বতঃস্ফূর্ত প্রেরণা ও সর্বজনীন কল্যাণের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পথ চলতে গিয়ে নানা প্রকার বাধা-বিপত্তি এবং বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁদের—তাঁদের প্রত্যেকের জীবনী পাঠে আমরা এ তথ্য জানতে পারি। বেগম রোকেয়ার জীবনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তাঁর জীবন সম্বন্ধে যে সামান্য তথ্য আজ পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে এবং লিপিবদ্ধ হয়েছে তার থেকে রোকেয়ার সংগ্রামী জীবনের যে ছবি আমরা পাই তা আমাদের যথার্থই বিস্মিত করে। সমাজ-সংস্কারক রোকেয়া তাঁর কার্যক্ষমতা ও তিতিক্ষা, আদর্শের মহত্ত্ব ও স্পষ্টতা, আত্মত্যাগ ও পরার্থপরতা, সহনশীলতা ও দৃঢ়তা, এবং সর্বোপরি, তাঁর অন্তর্দৃষ্টির স্বচ্ছতা প্রভৃতির বিবেচনার দ্বারা পৃথিবীর প্রথম সারির সংস্কারকদের অন্যতম বলে গণ্য হবার যোগ্য কিনা৷ সে মূল্যায়ন ভবিষ্যতই করবে। তবে বেগম রোকেয়ার জীবনী পাঠে এ-মত নিশ্চিতভাবেই প্রকাশ করা যায় যে, বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার সাহায্যে এবং স্বতঃস্ফূর্ত প্রেরণার সাথেই তিনি তাঁর অভীষ্ট পথে অগ্রসর হয়েছিলেন। একমাত্র সেই লক্ষ্য ব্যতীত অন্য কোন পুরস্কার পাবার প্রত্যক্ষ ব৷ পরোক্ষ কামনা তাঁর মনে যে বিন্দু মাত্রও স্থান পায়নি সে তথ্যটিও আমরা নির্দ্বিধায় মেনে নিতে পারি রোকেয়ার সংগ্রামী জীবন স্মরণ করে আমরা যথার্থই বিস্মিত হই। আমরা বিস্মিত হই এই মহান ব্যক্তিত্বের মধ্যে কোমল আর কঠিনের সংমিশ্রণ দেখে, আত্মত্যাগ ও পরার্থপরতার দৃষ্টান্ত দেখে, আর সর্বোপরি তাঁর দৃঢ়তা ও সহনশীলতার পরিচয় পেয়ে কিন্তু এই সকল গুণগুলোকেই আচ্ছন্ন করে দেয় সাহিত্য কর্মে তাঁর নিজস্ব মতামত প্রকাশের মাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর মুক্তবুদ্ধির হীরক-ঔজ্জ্বল্য। নারীমুক্তির সপক্ষে তাঁর নানাবিধ যুক্তির অবতারণাই তাঁর মুক্তবুদ্ধির সুস্পষ্ট স্বাক্ষর। এই সকল যুক্তির উপস্থাপন৷ করে তিনি নারী সমাজকে এবং সমগ্র বাঙালী সমাজকে বুদ্ধিমুক্তির অভিযানে যাত্ৰা

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.

Published

1982-04-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

মুক্তবুদ্ধি, বেগম রোকেয়া ও নারী-অধিকার. (1982). সাহিত্য পত্রিকা, 25(2), 114-120. https://doi.org/10.62328/sp.v25i2.6

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%