যশোর জেলার আঞ্চলিক ভাষা
Abstract
ভাষা-বিচারে আঞ্চলিক ভাষাকে ‘উপভাষা' বলা হয়। আবার তা বিভাষ৷ নামেও পরিচিত। বস্তুতঃ আঞ্চলিক ভাষ৷, উপভাষা বা বিভাষা – কোন নির্দিষ্ট ভাষার মূলরূপ থেকে কতকটা বিচ্ছিন্ন বা বিচ্যুত ভাষা। এ বিচ্যুতি ভাষা-বিজ্ঞানের শব্দতত্ত্ব, ধ্বনি-তত্ত্ব এবং রূপতত্ত্ব—তিন ক্ষেত্রেই দেখা যায়। অর্থাৎ সাহিত্যের কুলীন ভাষার যেমন নিজস্ব শব্দতত্ত্ব, ধ্বনিতত্ত্ব ও রূপতত্ত্ব আছে, তেমনি আঞ্চলিক ভাষার, উপভাষার বা বিভাষারও আছে স্বাতন্ত্র্যমূলক কিছু শব্দসম্পদ, ধ্বনিসম্পদ ও রূপসম্পদ। কিন্তু যেহেতু তা কোন-না-কোন মূল ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত সেই হেতু কোন উপভাষাই কোন নতুন ভাষা নয় ; বরং একটি বিশেষ ভৌগোলিক পরিধিতে একটি বিশেষ ভাষার আঞ্চলিক রূপেরই প্রতিনিধি সে। যশোরের আঞ্চলিক ভাষা এর ব্যতিক্রম নয়। বালাদেশের প্রায় সমস্ত জেলার আঞ্চলিক ভাষার মতই যশোর জেলার আঞ্চলিক ভাষারও অঞ্চল ভেদে-রূপভেদ দেখা যায়। উদাহরণ দিতে গিয়ে বলা যায়,—এ জেলার পূর্বাংশের ভাষা, বিশেষতঃ নড়াইল ও মাগুরা মহকুমার পূর্বাংশের ভাষা, ফরিদপুরের ভাষা এবং বাগভঙ্গি দিয়ে প্রভাবিত। আবার যশোরের পশ্চিমাংশের ভাষা, চব্বিশ পরগনা ও কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক ভাষা এবং বাগ্ভঙ্গিতে আবিষ্ট। এমন কি সূক্ষ্মদৃষ্টিতে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, অন্যান্য জেলার মত এ জেলার আঞ্চলিক ভাষাও প্রায়শঃ থানা ভেদে বিভিন্ন৷ প্রসঙ্গতঃ বলা আবশ্যক, আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে আমাদের দেশে বিশেষ গবেষণা হয়নি৷ বৃটিশ আমলে সরকারী উদ্যোগে জর্জ গ্ৰীয়াৰ্সন 'Linguistic Survey of India' নামক ভাষা—জরীপ গ্রন্থে বাঙ্লার উপভাষা বা আঞ্চলিক ভাষা সম্পর্কে যেটুকু আলোচনা করেছেন মূলতঃ তার উপর ভিত্তি করেই ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এ দেশের প্রথম আঞ্চলিক ভাষার অভিধান, বাঙলা একাডেমীর উদ্যোগে সম্পাদনা করেন। এ- অভিধানের ভূমিকায় তিনি বালাদেশের বিভিন্ন জেলার উপভাষার মধ্যে পার্থক্য এবং বৈচিত্র্যের উদাহরণ দিতে গিয়েও গ্রীয়ার্সনের উল্লেখিত উদাহরণই উদ্ধৃত করেছেন তিনি ঐ সব উপভাষার বিভিন্ন রূপের মধ্যে অঞ্চল বা জেলাভেদে কোন ব্যাকরণগত বিশেষত্বেরও পরিচয় দেননি। ফলে ঐ অভিধানে যশোর জেলার কিছু কিছু আঞ্চলিক শব্দ রূপের সাক্ষাৎ মেলে, কিন্তু ঐ অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষার সামগ্রিক কোন পরিচয়
মেলে না। শিবপ্রসন্ন লাহিড়ীর সম্পাদিত ‘যশোর-খুলনার ছড়া' বইয়েও—যশোর ও খুলনা জেলার আঞ্চলিক ভাষার যে সামান্য তত্ত্বগত আলোচনা রয়েছে—তার মধ্যে ও এরূপ সীমাবদ্ধত৷ বিদ্যমান। লেখক, সর্বতোভাবে ছড়াগুলোর উপর ভিত্তি ক'রে যে ভাষাতত্ত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা ঐ ছড়ার-ই ভাষাতত্ত্ব, কোন আঞ্চলিক ভাষার তত্ত্ব নয়। কেননা, যে কোন স্থানের লৌকিক ছড়ার ভাষাতত্ত্ব মূলতঃ ঐ অঞ্চলের লোক-সাহিত্যের 'একটি বিশেষ মার্জিত রূপেরই পরিচয় বহন করে; তা ঐ স্থানের আঞ্চলিক ভাষার চলতি বৈশিষ্ট্যকে সম্পূর্ণরূপে চিত্রায়িত করেনা৷ তা ছাড়া, শিবপ্রসন্ন বাবু খুলনা থেকে পৃথক যশোর জেলার ছড়ার ভাষারও আলাদা কোন ব্যাকরণগত রূপের পরিচয় দেননি।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1982 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.