সংস্কৃত সাহিত্যে দূতকাব্য
Abstract
সংস্কৃত সাহিত্যে “দূতকাব্য এক অপূর্ব সৃষ্টি। ইংরেজী সাহিত্যে অনেকটা এই জাতীয় রচনা দেখা যায়--যার নাম 'লিরিক' বা গীতিকবিতা। গীতিকবিতা কবির একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতির ফসল। তা সহজ সাবলীল গতিতে গীতিমুখর হয়ে আত্মপ্রকাশ করে। এ-কারণেই গীতিকবিতা সাধারণতঃ দীর্ঘ হয় না, কারণ গীতিকবিতা তো একটি মাত্র অনুভতির প্রকাশ। গীতিকবিতা একটি খণ্ডিত কাব্য, তাই এতে পরিপূর্ণ মানব জীবনের ইংগিত পাওয়া যায় না, কেবল পাওয়া যায় তার অন্তরের অন্তঃস্থলে জাগরিত একটি মাত্র ভাব বা আবেগকে। সংস্কৃত দূতকাব্যও অনেকটা এ-ধরনের। এখানেও সম্পূর্ণ মানবকে পাওয়া যায় না, পাওয়া যায় তার অংশ বিশেষকে। এটাই সংস্কৃত দূতকাব্য 'ও ইংরেজী লিরিক-এর মধ্যে সাদৃশ্য। ইংরেজী ‘লিরিক' কাব্যে সাধারণতঃ দেহনিষ্ঠপ্রেমই উপজীব্য বিষয়, কিন্তু সংস্কৃত দূতকাব্যে দেহনিষ্ঠ প্রেম ব্যতীত ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ-বিষয়ক কাহিনী ও স্থান পেয়েছে। বিষয়-বস্তুর দিক থেকে সংস্কৃত দূতকাব্যের ব্যাপকতা অনেক বেশী। সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্র মতে মহাকাব্যের বিশেষ বিশেষ কতগুলো দিক থাকবে—যেগুলো মেনে না চললে মহাকাব্য হবেনা। সংস্কৃত দূতকাব্য মহাকাব্যের এ-সকল দিকগুলোর যে কোন একটি নিয়ে রচিত। তাই অলংকার শাস্ত্র মতে দূতকাব্যকে ‘খণ্ডকাব্য’ও বলা হয়ে থাকে। রাজা যেমন লোক-লস্কর, সৈন্য-সামন্ত, পারিষদবর্গ নিয়ে মহাসমারোহে যাত্রা শুরু করে—মহাকাব্য ও তেমনি বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে অর্থাৎ তার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যসহ মহান দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে লক্ষ্যাভিমুখে যাত্রা করে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1984 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.