শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ও ব্রজাঙ্গনা কাব্য: রাধার বিরহ চিত্রণের রূপভেদ

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v60i1-2.6

Authors

Keywords:

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, বড়ু চণ্ডীদাস, রাধা ও কৃষ্ণ চরিত্র, প্রেম ও বিরহ, রাধার বিরহ

Abstract

বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ও মধুসূদন দত্তের ব্রজাঙ্গনা কাব্য দুই কালের ও মনোভঙ্গির দুই কবির কাব্য হলেও উভয় কাব্যের মূল সুর রাধা-কৃষ্ণের প্রেম এবং তৎসঞ্জাত রাধার বিরহ। দুটি কাব্যের রচনাকালের মধ্যে আনুমানিক প্রায় চার শতাব্দীর ব্যবধান। ফলে স্বভাবতই রাধার বিরহকে দুই কবি ভিন্ন ভিন্ন পর্যবেক্ষণে তাঁদের কাব্যে উপস্থাপন করেছেন। সমকালীন সমাজ-সময়-সংস্কৃতি-জীবনাচার, আধুনিক এবং পূর্বকালীন জ্ঞান ও বিশ্বাসের পার্থক্য তাঁদের কবিসত্তা আর কাব্যের চরিত্রায়ণে নিঃসন্দেহে প্রভাব রেখেছে। বড়ু চণ্ডীদাস যেখানে পূর্ববর্তী সংস্কৃত কাব্য, পুরাণ ও লোকজ বিশ্বাসকে নিজের কল্পনার মিশ্রণে কাব্যে প্রয়োগ করেছেন সেখানে ইংরেজ শাসনামলে ইউরোপীয় উন্নত শিক্ষার সংস্পর্শ ও পঠনপাঠন মধুসূদনের কাব্যাদর্শকে ভিন্নভাবে গড়ে তুলেছে। কাব্যে আদিরস ও শরীরী অনুষঙ্গ ব্যবহারের রকমভেদও দুই কবির রাধা-বিরহ বর্ণনের ক্ষেত্রে পার্থক্য সূচিত করেছে। দুই কবির অঙ্কিত রাধা চরিত্রেও পড়েছে কবিদ্বয়ের মননজাত পার্থক্যের ছাপ। বড়ু চণ্ডীদাসের কাব্যের ‘অথঃরাধাবিরহ’ খণ্ডে অন্য চরিত্রের উপস্থিতি ও সংলাপ রাধার বেদনাকে কোথাও বৃদ্ধি কোথাও-বা প্রশমিত করেছে। মধুসূদনের কাব্যে রাধার বেদনার সাক্ষী হয়েছে প্রকৃতি ও প্রকৃতির অনুষঙ্গ। বিরহবেদনা সেখানে সম্পূর্ণত রাধার বক্তব্যের মাধ্যমে প্রস্ফুটিত হয়েছে। দুই কবিই প্রকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে রাধার বিরহ ব্যাকুলতাকে তাঁদের কাব্যে চিত্রায়িত করেছেন। মূলত পাঠ-বিশ্লেষণ ও তুলনামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করে এই প্রবন্ধে বড়ু চণ্ডীদাস ও মধুসূদন দত্তের কাব্যদ্বয়ে রাধার বিরহদশা চিত্রণের ক্ষেত্রে এই দুই কবির সাদৃশ্য ও স্বাতন্ত্র্যকে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

Downloads

Download data is not yet available.

References

উপল তালুকদার (২০০৯)। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: কাব্যপাঠ ও জিজ্ঞাসা। ঢাকা: মাওলা ব্রাদার্স

ওয়াকিল আহমদ (১৯৯৪)। মধ্যযুগে বাংলা কাব্যের রূপ ও ভাষা। ঢাকা: বাংলা একাডেমি

গোলাম মুরশিদ (২০২৩)। মাইকেলের জীবন ও পত্রাবলী। ঢাকা: অবসর প্রকাশনা সংস্থা

গোলাম মুরশিদ (২০২৪)। মাইকেলের দু শো বছর। ঢাকা: অবসর প্রকাশনা সংস্থা

তপেন্দ্র নারায়ণ দাশ (২০২৩)। মধ্যযুগের বাংলাসাহিত্যে ইতিহাসচেতনা। কলকাতা: নান্দনিক

নীলরতন সেন (২০০৪)। শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন প্রথম খণ্ড (সম্পাদিত)। কলকাতা: সাহিত্যলোক

নীলিমা ইব্রাহীম (?)। বাংলার কবি মধুসূদন। ঢাকা: নওরোজ কিতাবিস্তান

নীলিমা ইব্রাহীম (১৯৯৬)। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যপাঠের ভূমিকা (সম্পাদিত)। ঢাকা: সময় প্রকাশন

বড়ু চণ্ডীদাস (২০১৬)। বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন সমগ্র (অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য সম্পাদিত)। কলকাতা: দে’জ পাবলিশিং

বিকাশ পাল (২০২৪)। ‘মধুসূদন দত্তের ব্রজাঙ্গনা পাঠ পরিক্রমা’, কৃত্তিবাস (দ্বিশতবর্ষে মধুসূদন), বর্ষ ৯ সংখ্যা ৪-৫। কলকাতা

মধুসূদন দত্ত (২০০৯)। মধুসূদন রচনাবলী (ক্ষেত্র গুপ্ত সম্পাদিত)। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ

মুহম্মদ আবদুল জলিল (১৯৮৬)। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে বাংলা ও বাঙালী সমাজ। ঢাকা: বাংলা একাডেমি

যোগীন্দ্রনাথ বসু (১৯৯৩)। মধুসূদন দত্তের জীবনচরিত। কলকাতা: দে’জ পাবলিশিং

রফিকউল্লাহ খান ও সৌরভ সিকদার (২০১৯)। মেঘনাদবধ কাব্য (সম্পাদিত)। ঢাকা: মাওলা ব্রাদার্স

শম্ভুনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (২০১১)। মধ্যযুগের ধর্মভাবনা ও বাংলা সাহিত্য। কলকাতা: অক্ষর প্রকাশনী

শশিভূষণ দাশগুপ্ত (১৩৯৬)। শ্রীরাধার ক্রমবিকাশ: দর্শনে ও সাহিত্যে। কলকাতা: এ মুখার্জী এ্যান্ড কোং প্রাইভেট লিমিটেড

সুদীপ বসু (২০২৩)। ‘মধুসূদনের ‘ব্রজাঙ্গনা’: সমকালে এবং কালোত্তরে’, মধুসূদন (তাপস ভৌমিক সম্পাদিত)। কলকাতা: কোরক

cover

Downloads

Published

2025-08-21

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন ও ব্রজাঙ্গনা কাব্য: রাধার বিরহ চিত্রণের রূপভেদ. (2025). সাহিত্য পত্রিকা - Shahitto Potrika | University of Dhaka, 60(1-2), 91-106. https://doi.org/10.62328/sp.v60i1-2.6