শরৎচন্দ্র : চিন্তা ও চেতনা
Abstract
কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রের পরিচয় ও প্রতিষ্ঠা সর্বজনবিদিত। সুগভীর করুণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর প্রধান সাহিত্যসম্পদ। রবীন্দ্র -প্রতিভার পূর্ণবিকাশ কালে তাঁর আবির্ভাব হলেও কথাসাহিত্য রচনায় তাঁর স্বতন্ত্র পথটি সকলের চোখে পড়েছিল, এবং ঔপন্যাসিক হিসাবে তিনি বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের সাথে এক নিঃশ্বাসেই উচ্চারিত হতেন। শরৎচন্দ্রের ভিন্নতর মূল্যবোধ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা, সচেতন সমাজদৃষ্টি ও বাস্তববোধ, সর্বোপরি বিদ্রোহের একটি ভঙ্গীর জন্য সমকালীন পাঠক-সমাজের অভিনন্দন তিনি লাভ করেছিলেন। সেইজন্য শরৎচন্দ্র তাঁর বক্তব্যে কতটা আন্তরিক, জগৎ ও জীবন সম্পর্কে তাঁর যথার্থ দৃষ্টি কি, মহৎ উপন্যাস রচনার শিল্পগত প্রেরণা ও সামর্থ্য তাঁর কতট। ছিল—এ-সম্পর্কে কোন প্রশ্ন ওঠেনি। সামাজিক নীতির দিক থেকে তিনি বঙ্কিমচন্দ্রের অনুশাসন, রবীন্দ্রনাথের দ্বিধাকে যথার্থই অতিক্রম করতে পেরেছিলেন কিনা সে-বিচারও পরবর্তী কালের অপেক্ষায় থাকে । শরৎচন্দ্র অসাধারণ জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক। তাঁর পাঠক ‘তেতালা৷ থেকে বটতলা', সর্বত্র। এই বৃহৎ পাঠকগোষ্ঠী আকর্ষণ করার মত উপকরণ শরৎ- উপন্যাসে প্রচুর—সমাজ সচেতনতা, বাস্তব অভিজ্ঞতা, হৃদয়বোধ ও করুণা, রোমান্টিক ভাবাতিশয্য—এগুলো সাধারণ পাঠককে মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু ‘কৃষ্ণকান্তের উইল', 'গোরা', ‘পথের পাঁচালী', ‘কবি,’ ‘পদ্মানদীর মাঝি'র মত মহৎ উপন্যাস তাঁর একটিও নেই। পৃথকভাবে মহৎ উপন্যাসের উপকরণ শরৎ-সাহিত্যে যে নেই এমন কথা বলা যায়না, কিন্তু সকল উপকরণ কোন একটি উপন্যাসে সংহত হয়ে অখণ্ড শিল্প-প্রেরণায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠেনি। না ‘শ্ৰীকান্ত’, না ‘গৃহদাহ', না ‘চরিত্রহীন’–কোনটিই মহৎ শিল্প-পরিণতি বহন করে না।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1984 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.