বিষ্ণু দে : নব জগতের নির্মাণে
Abstract
মার্কসবাদে আস্থা তিরিশোত্তর বাংলা কবিতায় বিষ্ণু দে-র বৈশিষ্ট্য নির্দেশক। প্রথমাবধি ছিল তাঁর বিশ্ববীক্ষা। ‘উর্বশী ও আর্টেমিস'-এ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য পুরাণের যুগল স্মরণ দ্রুত সাক্ষাৎ পেয়েছে 'চোরাবালি'র। আধুনিক চৈতন্যে মীথ আর পুরাণ নয়, যা মিথ্যা প্রমাণিত তা-ই মীথ এবং ১৯১৭-র রুশ বিপ্লব ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠার পর মার্কসবাদ আর মীথ নয়। লুই আরাগঁ, পল এলুয়ার ও ডব্লিউ. এইচ. অডেনের মতই মার্কসবাদই উত্তরণের পথ—এই বিশ্বাসে বিষ্ণু দে স্থিত হয়েছেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার স্বাতন্ত্র্যে অডেন, স্পেন্ডার মার্কসবাদ থেকে সরে গেছেন; সুধীন্দ্রনাথ হয়েছেন সংশয়ী। কিন্তু বিষ্ণু দে আরাগঁ, এলুয়ারের মতই অবিচল এবং তাঁদের মতই রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীর শিল্প-উৎকর্ষ থেকে চোখ ফেরাননি। অনায়াসে অনুবাদ করেছেন এলিয়ট, এই ভেবে যে, “এ কবির পরিণতির দীর্ঘ মহাপ্রস্থান নমস্যকীর্তি, তাঁর করুণ রাজনীতি সত্ত্বেও।” মার্কসবাদকে মুখ্য জেনে বিষ্ণু দে প্রসঙ্গ ও প্রকরণের প্রার্থিত সঙ্গতি থেকে বিচ্যুত হননি। সুধীন্দ্রনাথের মতই ছন্দ ও মিলে স্বাচ্ছন্দ্য ও পরীক্ষা-প্রবণতা তাঁরও বৈশিষ্ট্য; অনলস তিনি কবিভাষার শ্রমসাধ্য নব-নব রূপায়ণে। স্বেচ্ছাকৃত দুরূহতা তারুণ্যে বক্তব্যের সামান্যত৷ আড়াল করার ক্ষুদ্র কৌশল; যেমন কিশোর রবীন্দ্রনাথের ব্রজবুলির ব্যবহার। তবে এই মনোভাবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বিশের দশকে এলিয়ট-পাউন্ডের এবং তিরিশের অড়েন ও পরবর্তী স্পেন্ডারের শিক্ষা। আরাগঁর মত তিনিও “কখনে জনসাধারণ বলে কিছু কল্পনা করে ‘নেমে' লেখেননি, নিজের আবেগ থেকেই সোজা লিখেছেন যে লেখার ভিতে আছে তাঁর দেশপ্রেম, তাঁর রাজনীতি এবং সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সাহিত্যিক ধ্যান-ধারণার দীর্ঘ ও জটিল সাধনা।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1984 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.