শূদ্রক ও শরৎচন্দ্র
Abstract
ভুলনা সাধারণতঃ একই জাতের জিনিসের মধ্যেই হয়ে থাকে। সাহিত্যে যেমন—নাটকের সঙ্গে নাটকের, কাব্যের সঙ্গে কাব্যের, কবির সঙ্গে কবির, নাট্যকারের সঙ্গে নাট্যকারের ইত্যাদি। কিন্তু এক জাতের সঙ্গে অন্য জাতের তুলনা হয় না। তবে এক দিক থেকে ভিন্ন জাতের মধ্যেও তুলনা হতে পারে—সেটা হচ্ছে, বিষয়বস্তু। সাহিত্যিকের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে বিষয়বস্তু চিত্তাকর্ষক ধ'রে পাঠকের সম্মুখে পরিবশেন করা। খাবার পরিবেশকের কাজ এবং উদ্দেশ্য — খাবার পরিবেশন করা, তা তিনি যে রকম পাত্রেই করুন না কেন। ঠিক তেমনি সাহিত্যিকের কাজ হল সাহিত্যবস্তু পরিবেশন করা, তা তিনি নাটকের আকারেই করুন আর কাব্যের আকারেই করুন কিংবা অন্য কোন প্রকারেই করুন, যে ভাবেই করুন না কেন পরিবেশিত বস্তুর সার্থকতাই হচ্ছে বড় কথা। তাই পরিবেশিত বস্তুর দিক থেকে এক জাতের সঙ্গে অন্য জাতের তুলনা হতে পারে। এখানেও এ-ধরনেরই অর্থাৎ ভিন্ন জাতের মধ্যে একটি তুলনা দেখানোর প্রয়াস পাচ্ছি। শূদ্রব হচ্ছেন সংস্কৃত সাহিত্যের একজন বিখ্যাত দৃশ্যকাব্যকার বা রূপঙ্ক-কবি, আর শরৎচন্দ্রের প্রধান পরিচিতি হচ্ছে—তিনি বাংলা সাহিতোর একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক। একজন রূপককার অন্যজন উপন্যাসকার। এঁদের মধ্যে তুলনা করার দু'টি কারণ—এক : উভয়ের সাহিত্যকর্মের উপজীব্য বিষয় এক জাতের। দুই : শূদ্রকের সাহিত্যকর্ম মাত্র একটিই (অদ্যাবধি আবিষ্কৃত হয়েছে), সেটি রূপক:— 'মৃচ্ছকটিক'। রূপককার হিসেবেই শূদ্রকের একমাত্র পরিচয়। আর এই রূপকের বিষয়বস্তুর সঙ্গেই শরৎচন্দ্রের রচনার মিল রয়েছে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1985 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.