গীতিকবি কায়কোবাদ : অশ্রুমালা প্রসঙ্গ
Abstract
বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) মতো আর একজন কবির দীর্ঘায় লাভের সৌভাগ্য হয়েছিল, তিনি কবি ‘কায়কোবাদ' (১৮৫৮-১৯৫২)। তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত তিনি জীবিত ছিলেন। এ দীর্ঘ জীবনে তিনি সাহিত্য-চর্চায় ছিলেন নিরলস পরিশ্রমী। আবুল ফজল বলেছেন, “নজরুল ইসলামের আবির্ভাবের আহ্ পর্যন্ত আমাদের সাহিত্য সাধনার ইতিহাসে নিঃসন্দেহে কায়কোবাদের ভূমিক। ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আর অদ্বিতীয়।” সে যুগের অন্যান্য মুসলমান সাহিত্যিকরা যখন মুসলিম শৌর্যবীর্য প্রকাশের তাগিদে সাহিত্যচর্চা করছেন, তখন কায়কোবাদ সাহিত্যক্ষেত্রে আবির্ভূত হলেন একজন গীতিকবির হৃদয়ের একান্ত অনুভূতির কথা নিয়ে, ‘বিরহ-বিলাপ' (১৮৭০) কাব্যের মাধ্যমে। সুদীর্ঘ জীবনে বহু কাব্য রচনা করলেও তাঁর দুটি প্রধান রচনা গীতিকবিতা 'অশ্রুমালা' (১৮৯৫) এবং কাহিনীকাব্য 'মহাশ্মশান' (১৯০৪) । বাংলা কাব্য ক্ষেত্রে কায়কোবাদের আবির্ভাব কালে বাঙালী মুসলমানের দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল দো-ভাষী পুথি সাহিত্যের দিকে। “দো-ভাষী পুথি' সাহিত্যের যুগে এই অশ্রুমালাই সেই সময়কার নতুন পরিবর্তিত সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্যের প্রবাহিত ধারার সঙ্গে মুসলমানদের যোগসূত্র স্থাপন করেছে। আর এ কারণেই “আধুনিক বাংলা কাব্য ক্ষেত্রে, বাঙালী মুসলমান কবিদের মধ্যে কায়কোবাদের আসন বিশিষ্টরূপে চিহ্নিত।” কায়কোবাদ তাঁর সক্রিয় কবি জীবনে উনিশ শতকের কবি মাইকেল হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র সেনের কাব্য-বলয়েই পরিভ্রমণ করেছেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1985 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.