বাংলা সাহিত্যে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষণ
Abstract
হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশস্থ এ উপমহাদেশে (বাংলা-পাক-ভারতে) বাংলা, ওড়িয়া, আসামী, মৈথিল, পাঞ্জাবী, সিন্ধী, পস্তু, মারাঠী, গুজরাটী, তামিল, তেলেগু, মলয়ালম, কানাড়ি, কাশ্মীরী ইত্যাকার বহু আঞ্চলিক ভাষা ছিল ও আছে। কিন্তু ঐতিহ্য, সমৃদ্ধি, ও প্রতিষ্ঠার দিক থেকে কোন ভাষাই বাংলা ভাষার সমতুল্য হয়ে উঠতে পারেনি। আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও সুপ্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য—এ উপমহাদেশের কোন আঞ্চলিক ভাষার ভাগ্যে জোটেনি। বাংলা ভাষার এ সুগভীর ঐতিহ্য ও সুগদ্ধির পেছনে রয়েছে বাংলার স্বাধীন সুলতানাতের কালে ইলিয়াস শাহী সুলতান ও শাহজাদাগণ এবং তদবংশোদ্ভূত বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শাহজাদখানী নরপতিগণ এবং তাঁদের অনুসরণে বিভিন্ন রাজকর্মচারী ও সামন্তজমীদার কর্তৃক বাংলা সাহিত্যের কবি সাহিত্যিকদের পৃষ্ঠপোষণ দানের ইতিহাস। আলোচ্য নিবন্ধে আমরা সে সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করার চেষ্টা করবো। প্রখ্যাত পণ্ডিত মরহুম ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও তাঁর অনুসারীদের মতে বাংলার কাব্য কাননের আদিপিক ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের কবি বড়ু চণ্ডীদাস বাংলার ইলিয়াস শাহী সুলতান সিকান্দার শাহর (১৩৫৭-১৩৯৩) পৃষ্ঠপোষণ লাভ করেন। ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক ও অন্যান্য অনেক বিদ্বান মনে করেন যে, সুলতান সিকান্দার শাহর পুত্র সুলতান গিয়াসুদ্দীন আজম শাহ (মৃত্যু-১৪১০ খ্রী.) কবি শাহ্ মোহাম্মদ সগীর-এর পৃষ্ঠপোষণ করেছিলেন এবং কবি সগীর তাঁর আমলে 'ইউসুফ-জোলেখা' নামে একটি প্রণয় কাব্য রচনা করেন। কবি তাঁর সম্পর্কে বলেন—“মনুষের নৈদ্ধে জেহ্ন ধর্ম অবতার। মোহানরপতি গেছে পিরথিম্বির সার”।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1985 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.