অলঙ্কার-অন্বেষা
Abstract
প্রাচীন ভারতীয় অলঙ্কার-শাস্ত্রে 'কাব্য' ও 'সাহিত্য' শব্দ দুটি একার্থক । সংস্কৃত-আলঙ্কারিকদের প্রজ্ঞাময় সাধনায় খ্রীস্টপূর্ব যুগ থেকেই শুরু হয়েছে কাব্যতত্ত্বের চর্চা। কাব্যের সংজ্ঞার্থ কি, তার আত্মা কোথায়, কাব্যের উদ্দেশ্যই বা কি—ইত্যাদি প্রসঙ্গ প্রাচ্য আলঙ্কারিকদের কাব্যতত্ত্ব-চর্চার সুমহান সাধনায় করেছে উদ্বুদ্ধ। প্রাচীন ভারতের মতো খ্রীস্টপূর্ব যুগেই গ্রীসেও শুরু হয়েছিল কাব্যতত্ত্বের আলোচনা। যদিও এ্যারিস্টটলের (খ্রী. পূ. ৩৮৪—খ্রী. পূ. ৩২২) ‘পোয়েটিক্স' গ্রন্থের অনেক পরে রচিত হয়েছে প্রাচ্য কাব্যতত্ত্বের প্রথম গ্রন্থ ভরতের (চতুর্থ শতাব্দী) ‘নাট্যশাস্ত্র’; তবু প্রাচীন ভারতীয় কাব্য-শাস্ত্রে কোথাও নেই এ্যারিস্টটলের কোন প্রভাব। সংস্কৃত-কাব্যশাস্ত্র প্রথম থেকেই বিকশিত হয়েছে নিজস্ব পথ ধরে। জারিস্টটলের আলোচনায় যেখানে প্রাধান্য পেয়েছে কাব্যনির্মিতি প্রসঙ্গ, সেখানে প্রাচ্য অলঙ্কার-শাস্ত্রে সৌন্দর্যচেতনা। তা সত্ত্বেও, ভারতীয় এবং গ্রীসীয় কাব্যতত্ত্বের মৌল-সাদৃশ্য আবিষ্কার মোটেই দুরূহ নয়। প্রাচ্যের আদি-আলঙ্কারিক ভরত থেকে আরম্ভ করে পণ্ডিতরাজ জগন্নাথ (সপ্তদশ শতাব্দী) পর্যন্ত সকলেই আনন্দ-সৃজন এবং রস-নির্মিতিকে কাব্যের মুখ্য উদ্দেশ্য বলে বিবেচনা করেছেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1985 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.