মুনি দত্ত-কৃত চর্যাগীতির সংস্কৃত টীকা
Abstract
আচার্য মুনি দত্ত সংস্কৃত ভাষায় চর্যাগীতির যে টীকা রচনা করেছিলেন সে-টীকা গভীর পাণ্ডিত্যে পরিপূর্ণ। তিনি তাঁর তীকার সাহায্যে প্রমাণিত করেছিলেন যে চর্যাগীতি নিগূঢ় তত্ত্ব একটি ধর্মীয় আদর্শের কাব্য। মুনি দত্ত তাঁর টীকায় বিভিন্ন যোগ-প্রকরণ এবং যোগ-রহস্য ব্যাখ্যা করেছেন। এর ফলে যে কোনও পাঠকের সামনে চর্যাগীতিকা জটিল তত্ত্বসমৃদ্ধ হয়ে উপস্থিত হয়। গীতিকার সাধারণ ভাষাকে তিনি রূপক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এবং বিভিন্ন সাধনতত্ত্বের উপপাদ্য করেছেন। এ গীতিকাগুলির রচয়িতাদের মধ্যে অনেকেই মহাপণ্ডিত ছিলেন। যেমন কাহ্ন, ভুসুকু এবং নরহ: এঁদের প্রত্যেকের রচিত ধর্ম এবং সাধন-গ্রন্থ আছে। মুনি দত্ত যে সমস্ত সাধন-প্রণালীর ব্যাখ্যা তাঁর টীকায় দিয়েছেন সেগুলো অধিকাংশই মহাযান বৌদ্ধ পন্থার। অবশ্য তিন নম্বর গীতিকায় নাথপন্থী যোগীনের সাধন-প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে এবং এগারো সংখ্যক গীতিকায় কাপানিকদের আচরণের কথা। কিন্তু মুনি দত্ত এগুলোরও বৌদ্ধ কাখ্যা দিয়েছেন। মুনি দত্ত গীতিকাগুলোর স্বাভাবিক সরল অর্থকে জটিল তত্ত্ব-ব্যাখ্যায় রূপান্তরিত করেছেন। যেমন চার নম্বর চর্যায় জোইনী তয়বিন্নু খনহী ন জীবমি'; এখানকার যোগীকে তিনি বাখ্যা করেছেন নৈরাত্মা যোগী বলে। এভাবে যোগিনীর সাধারণ অর্থ রক্ষিত না হয়ে একটু নতুন আশ্লেষে রূপান্তরিত হয়েছে। মুহ' বা মুখ-এর ব্যাখা মুনি সন্ত করেছেন সহজানন্দ বলে। চর্যাগীতিকায় যেখানে কমন রস পান করার কথা আছে সেখানকার ব্যাখ্যা মুনি দত্ত করছেন “পরমার্থ বোধিচিত্তম” বলে।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1985 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.