বিধবা বিবাহ ও বঙ্কিমচন্দ্র
Abstract
বালিকা কন্যার অকাল-বৈধব্যে বঙ্গভূমি কতকাল থেকে কুন্দন করেছিল? সে কুন্দন কতটা আন্তরিক ছিল ? বিধবা-বিবাহ আন্দোলন কালে ১৮৫৫ সালে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা-বিবাহ বিষয়ক তাঁর দ্বিতীয় পুস্তিকাতে এদেশের মানুষকে ধিক্কার দিয়ে লিখেছিলেন—“তোমরা মনে কর পতি বিয়োগ হইলেই, স্ত্রীজাতির শরীর পাষাণময় হইয়া বায়; দুঃখ আর দুঃখ বলিয়া বোধ হয় না, যন্ত্রণা আর যন্ত্রণা বলিয়া বোধ হয় না, দুর্জয় রিপুবর্গ এক কালে নির্মূল হইয়া যায়। কিন্তু তোমাদের এই সিদ্ধান্ত যে ভ্রান্তিমূলক, পদে পদে তাহার উদাহরণ প্রাপ্ত হইতেছ। ভাবিয়া দেখ, এই অনবধান-দোষে সংসার তরুর কি বিষময় ফল ভোগ করিতেছ। হায় কি পরিতাপের বিষয় ! যে দেশে পুরুষ জাতির দয়া নাই, ধর্ম নাই, ন্যায় অন্যায় বিচার নাই, হিতাহিত বোধ নাই, সদসদ্বিবেচনা নাই; কেবল লৌকিক রক্ষাই প্রধান কর্ম ও পরম ধর্ম; আর যেন সে দেশে অবলাজাতি জন্মগ্রহণ না করে। কর, হা অবলাগণ! তোমরা কি পাপে ভারতবর্ষে আসিয়া, জন্মগ্রহণ বলিতে পারি না।” নবজাগ্রত, পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত, নিজ ধর্মের নানা আচার ও কর্মের প্রতি বিদ্রোহ-ভাবাপন্ন ও উদার মানবপন্থী বলে কথিত ঊনবিংশ শতাব্দীর হিন্দু-সমাজ এই তীব্র তিরস্কারের পরেও কিন্তু বিধবা-বিবাহ আন্তরিক ভাবে গ্রহণ করেনি।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1985 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.