আধুনিক বাংলা কবিতা : প্রাসঙ্গিকতা ও পরিপ্রেক্ষিত
Abstract
প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালে পৃথিবীব্যাপী নৈরাজ্য-নৈরাশ্য-অবক্ষয়-ভগ্নচূর্ণ মূল্যবোধ আর নৈঃসঙ্গ্যতাড়িত অনিকেত-মানসিকতার পটভূমিতে, টি. এস. এলিয়টের (১৮৮৮-১৯৬৫) ‘দি ওয়েস্ট ল্যান্ড' (১৯২২) ও ‘দি হলো ম্যান' (১৯২৫)-এর আন্তরপ্রেরণায় আধুনিক বাংলা কবিতার অঙ্কুরোদ্গম। বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপীয় কবি-চৈতন্য আত্তীকরণ করে, বাংলা সাহিত্যে তিরিশের দশকে আবির্ভূত হয়েছিলেন যে স্বাতন্ত্র্যাভিলাষী প্রতিভাবানরা, তাঁরাই নতুন পর্বের আধুনিক বাংলা কবিতার জনয়িতা। সুধীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ-বুদ্ধদেব-প্রেমেন্দ্র-অন্নদাশঙ্কর-অমিয় চক্রবর্তী, বিষ্ণু দে প্রমুখ, প্রাচীন বটবৃক্ষের মতো বিস্তৃত ছায়া-প্রসারী রবীন্দ্র-সৃষ্টিস্নেহে বর্ধিত হয়েও নির্মাণ-প্রয়াসী ছিলেন রবীন্দ্র-প্রসন্নতা-শূন্য নতুন সাহিত্য-অভিরুচি, যাকে স্ফটিক-সংহতভাবে কখনো বলা হয়েছে ‘বিষয়ের আত্মতা’, কখনো ‘অবৈকল্য আর অকপটতা', কখনো-বা বিস্তৃতভাবে বলা হয়েছে এভাবে: আধুনিক কবিতায় যা লক্ষ্য করি, তা একান্তভাবেই নগরভিত্তিক ও আত্মসচেতন, বাস্তবমুখী ও মনস্তত্ত্বধর্মী। আমাদের কালের মধ্য দিয়ে দুটি রুধির নদী প্রবাহিত হয়েছে। জগৎ ও জীবন সম্পর্কে তা আমাদের পূর্বতন আশা-ভরসাকে নির্মূল করেছে । ফলে এসেছে তিক্ততা, হতাশা ও বেদনা; এসেছে স্বপ্নাতুর রোমান্টিকতার বিপর্যাস, প্রখর রৌদ্রের দ্বিপ্রহর।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1985 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.