বাংলা কবিতার ঐতিহ্য : প্রাক-আধুনিক যুগ
Abstract
আধুনিক কাব্য আলোচনা প্রসঙ্গে আমাদের অবশ্যই মনে রাখা প্রয়োজন, বাংলা গদ্যের মতো বাংলা কবিতা একান্তভাবে কেবল আধুনিক যুগেরই অবদান নয়। বাংলা কবিতার একান্ত নিজস্ব একটা সুপ্রাচীন ইতিহাস আছে। সে ইতিহাস বাংলার মাটি, মানুষ ও প্রকৃতির ঘনিষ্ঠতায় স্বতঃস্ফূর্ত এবং একটা মৌলিক কাব্য-জিজ্ঞাসা নিয়েই তার শুভ-সূচনা হয়েছিল। জন্ম-সূত্রেই বাংলা কবিতা একটা গৌরবময় ভাব-সম্পদের অধিকারী ছিল এবং অষ্টাদশ শতকে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর পর্যন্ত ভাষাভঙ্গিসহ তার একটা কুমবিবর্ধিত উৎকর্ষমুলক লক্ষণ-বৈশিষ্ট্য অনির্দেশ্য নয়। অষ্টাদশ শতকের শেষাদ্ধের প্রথম দশকে স্বাধীনতার বিনিময়ে অর্জিত ও ঔপনিবেশিক প্রশাসনে আরোপিত কৃত্রিম আধুনিকতায় বাংলা কবিতার সেই স্বাভাবিক কুমবিকাশ ঐতিহ্য-বিচ্যুত বিকারে সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত হলেও বহু দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, বিক্ষেপ ও অভিজ্ঞতায় স্বীয় ঐতিহ্যে বাংলা কবিতার গৌরবিত প্রত্যাবর্তন ও মহত্তম মুক্তি যেমন বিস্ময়কর, তেমন তাৎপর্যপূর্ণ এবং কৌতুহলোদ্দীপক ভাবে অভিনিবেশযোগ্য। ভাষাবিদ পণ্ডিতদের সিদ্ধান্ত অনুসারে বৌদ্ধগান ও দোহার অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট ৪৭টি পদ বাংলা কাব্যের প্রাচীনতম নিদর্শনরূপে স্বীকৃত। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উক্ত পদ ক'টিই এ পর্যন্ত প্রাপ্ত বাংলা কবিতার প্রাথমিক অভিজ্ঞান। পদগুলো বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের ধর্মচিন্তা ও সাধনপ্রণালী সম্পর্কে লিখিত সঙ্গীতাশ্রয়ী কবিতা। বাংলা কাব্যসাহিত্যে এগুলো চর্যাপদ, চর্যাগীতিকা ও মরমী সঙ্গীতরূপে বিশেষভাবে পরিচিত।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1985 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.