সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ও তাঁর 'লালসালু'
Abstract
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র ‘লালসালু' (১৯৪৯) একটি বহুল আলোচিত উপন্যাস। তবে এসব আলোচনা উপন্যাসটির শৈল্পিক স্বরূপ সম্পর্কে কোন স্থির প্রত্যর বা দৃষ্টিভঙ্গী নির্মাণ করেছে এমন বলা যায় না। বিভিন্ন সময়ে সমালোচকরা একে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে একটা ব্যাপারে সকলেই স্থির নিশ্চিত যে এখানে উপন্যাস নির্মাণের গতানুগতিক রচনাপ্রণালী অনুসৃত হয়নি। 'লালসালু'র বিশিষ্ট আঙ্গিক, চরিত্র নির্মাণের প্রত্যয়ী ভঙ্গী, সর্বোপরি বক্তব্যের সুগভীর ব্যঞ্জনা এবং তৎকালীন প্যান-ইসলামী পাকিস্তানী সমাজে তার সাহসিক উপস্থাপনা ঔপন্যাসিক জগতে 'ওয়ালীউল্লাহ্কে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে। ওয়ালীউল্লাহ্র এই পরিচয়ের পশ্চাতে আছে তাঁর অন্বিষ্ট লক্ষ্যের পথে ভ্রুক্ষেপহীন এগিয়ে যাবার ঐকান্তিক সাধনার ইতিহাস। সাহিত্যিক হিসাবে ব্যক্তিগত রুচির পরিচর্যায় তিনি ছিলেন পরোৎকর্ষপন্থী (perfectionist) লেখক। বার বার কেটে— ছিঁড়ে অনেক পরিকল্পনা-পরিমার্জনা শেষে সর্বোত্তম রূপ-নির্মিতিই হয় এ-জাতীয় লেখকদের স্বভাব। সুতরাং এদের মধ্যে অজস্রপ্রসূ লেখক সচরাচর চোখে পড়েনা। তবে আমাদের সৌভাগ্য এখানেই যে হাতে গোনা যে কটি রচনা তাঁর আছে তার প্রায় সবগুলিই কোন-না-কোন কারণে বিশিষ্ট। বস্তুতঃ 'লালসালু' ঢাকায় প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৯ সালের প্রথম দিকে। পরবর্তী এক দশক পর্যন্ত এ-উপন্যাসের সংবাদ খুব বেশী পাঠক-সমালোচকের জানা ছিল না। অর্থাৎ এই এক দশককাল পর্যন্ত গ্রন্থটি জনপ্রিয়তা লাভে ব্যর্থ হয়। সৈয়দ আবুল মকসুদ তাঁর "সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ জীবন ও সাহিত্য' গ্রন্থে এ-উপন্যাস জনপ্রিয় না হবার চারটি কারণ উল্লেখ করেছেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1986 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.