সাহিত্যে অনুকৃতি ও পরিউপস্থাপন
Abstract
সাহিত্যের উৎপত্তি ও তার শৈল্পিক বা নান্দনিক উৎকর্ষ বিচার নিয়ে দার্শনিক ও সাহিত্য সমালোচকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ভাববাদী ও মন্ময়ধর্মী (Subjective) উপাদান বাদ দিলে নিছক বস্তুনিষ্ঠ ও প্রতিনিধিত্বশীল কোন সাহিত্য সম্ভব কিনা—এ-এক জটিল প্রশ্ন। সন্দেহবাদী সমালোচকরা একে সংবাদপত্রের নির্জলা প্রতিবেদনের অধিক গুরুত্ব দিতে নিস্পৃহ। তথ্য সরবরাহ করাই যদি সাহিত্য না হয়, এবং এতে কোন সন্দেহ নেই যে বিশুদ্ধ খবর সাহিত্য নয়, তাহলে এই অতিরিক্ত উপাদানটি কি যা তথ্যকে সাহিত্যে রূপান্তরিত করতে পারে? অথবা বিষয়টি কি এমন প্রকৃতির যে তথ্য-নির্ভর কোন সাহিত্যই সম্ভব না? সাহিত্যের মূল উপজীব্য কি তথ্য ও সত্য না সংবেদনশীল মানবমন ও তার আকাঙ্ক্ষা? সাহিত্যের লক্ষ্য কি তথ্যকে সফলভাবে তুলে ধরে প্রচারধর্মী হওয়া এবং সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য সংস্কারধর্মী ভূমিক। পালন করা, না মানব-চিত্তে আনন্দ সঞ্চার করা ও কল্পনার স্ফুর্তি দেয়৷ এ-প্রবন্ধের সীমিত পরিসরে এ-প্রশ্নগুলোর সব দিক নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়। আমি এ-প্রশ্নগুলোর সাধারণ দিকের আলোকে প্রতিনিধিত্বমূলক সাহিত্য যে সম্ভব মূলত এ-বিষয়টির দার্শনিক দিকটিই এখানে সংক্ষেপে পর্যালোচনা করবো৷ প্রথমে আমি ধরে নেব যে সাহিত্যের মূল উপজীব্য তথ্য বা সত্য নয় এবং এর লক্ষ্যও প্রচারধর্মী বা সংস্কারমূলক নয়; বরং এর মূল উপজীব্য মানবমন ও তার আকাক্ষা এবং এর লক্ষ্য কল্পনার স্ফূর্তির মাধ্যমে মানবচিত্তে আনন্দের সঞ্চার করা। কিন্তু পরিশেষে আমি প্রমাণ করতে চাইবে৷ যথার্থ সাহিত্য তথ্য ও সত্য নিরপেক্ষ হতে পারে না এবং সত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ-পরিবর্তনের মহান আদর্শ হতে দূরেও থাকতে পারে না।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1986 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.