‘বারমাস্যা' বা বারমাসী-সাহিত্য

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v29i3.3
Crossmark

Authors

Abstract

বাংলা সাহিত্যে বারমাসী বলতে আমরা এক বিশেষ ধরনের পদ্য - বন্ধ রচনা বা গান বুঝি, যাতে নায়ক-নায়িকা তাঁদের আত্মীয়-পরিজন, মাতা-পুত্র, ভাই-বোন বা প্রিয়জনের বিচ্ছেদের কথা বৎসরের বারটি মাস অথবা ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যের সঙ্গে একাত্মসুরে ব্যক্ত করে। যুগ যুগ ধরে, বাংলাদেশের সাক্ষর কবি ও নিরক্ষর গায়েন, কথক বা লোকগীতিকা স্রষ্টার বারটি মাস অথবা ষড়ঋতুর বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবর্তন ও লীলা বৈচিত্র্যকে উপবীজীব্য করে, এই বিশেষ ধরনের সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন। শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়, ভারতীয় উপমহাদেশে এবং বাইরের পৃথিবীর প্রাচীন ও আঞ্চলিক সাহিত্যেও কর্মসঙ্গীত, ঋতুকেন্দ্রিক- ধর্ম-গীতি বা Seasonal Songs জাতীয় বারমাসীর নিদর্শন পাওয়া যায়। বিদেশী সাহিত্যের ঋতু-সঙ্গীত বা ‘সিজনাল সংস' যদিও এক জাতীয় বারমাসী-সাহিত্য, কিন্তু তা ঠিক ভারতীয় সাহিত্যের বারমাস্যা নয়। সেখানে বারোটি মাসের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য বা ফসল প্রধান না হয়ে, চারটি ঋতুই প্রধান হয়েছে। সেকারণে, অনেকে মনে করেন, লোকগীতিকার এই বিশেষ ধারাটি এই উপ-মহাদেশের নিজস্ব সম্পদ, ও সাহিত্যিক ঐতিহ্য। “সংসদ বাংলা অভিধানে” ‘বিরহিনী নায়িকার এক বৎসরব্যাপী সুখদুঃখের কাহিনী সংবলিত কবিতাকে 'বারমাসী' বলা হয়েছে। এর কারণ বোধকরি এই যে, নারী-জীবনের আনন্দ, বেদনা ও আশা-আকাঙ্ক্ষাই এর মূল সুর। আবার, কোন কোন বারমাসী হচ্ছে—নারী-পুরুষের সম্মিলিত জীবনের নর্ম, কর্ম ও ধর্মগীতি।

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.

Published

1986-06-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

‘বারমাস্যা’ বা বারমাসী-সাহিত্য. (1986). সাহিত্য পত্রিকা, 29(3), 91-114. https://doi.org/10.62328/sp.v29i3.3

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%