বাংলা কবিতায় আধুনিকতা : ভারতচন্দ্র
Abstract
অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে একটা গভীর, ব্যতিক্রমী ও সুদূর- প্রসারী তাৎপর্যে দৃষ্টিক্ষম নতুনত্ব নিয়ে বাংলা কাব্যে ভারতচন্দ্রের আবির্ভাব বিস্ময়কর হলেও আকস্মিক নয়। প্রতিকূল ধর্মীয় পার্থক্য সত্ত্বেও সুদীর্ঘ মধ্যযুগের অবাধ ও স্বতঃস্ফূর্ত অনুশীলনের ব্যাপক ও বিচিত্র অভিজ্ঞতায়, ভারতচন্দ্রের আবির্ভাবের পূর্বেই, বাংলা কাব্য মধ্যযুগীয় রীতি-পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গিতে জগৎ, জীবন ও মানুষ সম্পর্কে একটা সুমহৎ সত্যবোধ ও শ্রেয়চেতনায় সুষম পরিণতি লাভ করে। অর্থাৎ মধ্যযুগীয় কবিকৃতি তার সমস্ত আয়োজন ও ঐশ্বর্য নিয়ে একটা মহাযোগপর্বের সন্ধিক্ষণে এসে উপস্থিত হয় ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর সেই মহাযোগ পর্বের প্রত্যাশিত ও যোগ্যতম কবি প্রতিভা। ভারতচন্দ্রের দৃষ্টিক্ষম কাব্য-পারমিতায় বাংলা কাব্যের এ-সন্ধিক্ষণ একটা নতুন যুগের মহাসম্ভাবনার স্পষ্ট অভিজ্ঞতায় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু দুর্ভাগ্য ভারতচন্দ্রের, দুর্ভাগ্য বাংলা কাব্য তথা বাংলাদেশের জাতীয় সাহিত্য সংস্কৃতির। ভারতচন্দ্রের জীবদ্দশাতেই বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়, যার ফলে ভারতচন্দ্রের সম্ভাবনাময় মুক্ত কাব্যদৃষ্টি এবং বাংলাদেশের জাতীয় সাহিত্য মানবসত্যের মহিমা হারিয়ে এক সুদূরপ্রসারী কুটিলতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ১৭৫২ খ্রীষ্টাব্দে ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর তাঁর “অন্নদা মঙ্গল-কাব্য” রচনা শেষ করেন। তার পাঁচ বৎসর পর ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে ইউরোপ হতে আগত ইংরেজ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক বাংলার স্বাধীনতা পর্যুদস্ত হয়। তার তিন বৎসর পর ১৭৬০ খ্রীষ্টাব্দে ভারতচন্দ্র মৃত্যুবরণ করেন।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1986 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.