বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় ভাষাতত্ত্ব-চর্চা।
Abstract
বাংলাদেশে ভাষাতত্ত্ব-চর্চার শুরু ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় থেকে এবং তা বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগকে কেন্দ্র করে। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান এবং সম্ভবত তাঁরই অনুপ্রেরণায় মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ‘বৌদ্ধ গান ও দোঁহা’ বা ‘চর্যাপদ' নিয়ে গবেষণায় অগ্রণী হয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব বিভাগের প্রথম ছাত্র ছিলেন সেহেতু তাঁর ভাষাতত্ত্ব শাস্ত্রে অভিষেক পূর্বাহ্নেই সম্পন্ন হয়েছিল। ফ্রান্সে উচ্চ-শিক্ষার সময় তিনি বিশিষ্ট প্রাচ্য ভাষাবিদ খুঁল ব্লকের সংস্পর্শে আসেন এবং তা তাঁর ভাষাতাত্ত্বিক দক্ষতাকে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশে ভাষাতত্ত্ব চর্চার অগ্রণী ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, এবং তা শুধু ফরাসী বা ইংরেজী ভাষায় নয় বাংলা ভাষাতেও বটে। ভাষাতত্ত্বের কালানুক্রমিক, তুলনামূলক ও বর্ণানুক্রমিক তিনটি পদ্ধতিতেই শহীদুল্লাহ্, এবং তাঁর শিষ্য বা প্রশিষ্যগণ বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় ভাষাতত্ত্ব চর্চায় আত্মনিয়োগ করেছেন এবং কিছু অবদান রেখেছেন। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, বাংলা ভাষায় ভাষা- তত্ত্ব চর্চা করে আসছেন সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষাতত্ত্ব শাস্ত্রে উৎসাহী হবার পূর্ব থেকে। সুনীতি বাবুর ভাষাতত্ত্বে প্রধান কাজগুলি ইংরেজী ভাষাতে সম্পন্ন। তাঁর 'The Origin and Development of the Bengali Language' (1926) এবং ‘A Bengali Phonetic Reader' (1928) বাংলা ভাষা বিশ্লেষণে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী কর্ম এবং বাংলাভাষায় কালানুকূমিক ও বর্ণনামূলক ভাষাতত্ত্বের মূল ভিত্তি। “বাঙ্গালা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা” (১৯২৯) বাংলা ভাষায় ভাষাতত্ত্ব-চর্চার ইতিহাসে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
Downloads
Downloads
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 1987 সাহিত্য পত্রিকা

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.