নেপালী, নেবারী এবং বাংলা

DOI: https://doi.org/10.62328/sp.v30i2.1
Crossmark

Authors

Abstract

মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারে প্রাপ্ত চর্যাগীতিকা সম্পাদনা করে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে যখন প্রকাশ করেন তখন ভূমিকায় লিখেছিলেন যে নেপালে প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিটি ‘নেওয়ারী’ অক্ষরে লিপিকৃত ছিল। তিনি ‘নেওয়ারী' শব্দটি ব্যাখ্যা করেননি। পরবর্তীতে চর্যাগীতিকা বিভিন্ন লোক সম্পাদনা করেছেন তাদেরও কেউ ‘নেওয়ারী' কথাটির ব্যাখ্যা দেননি। এর ফলে অনেকে ধারণা করেছিলেন যে ‘নেওয়ারী' হচ্ছে নেপালী ভাষার বর্ণমালা। পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন সরহপার দোহাকোষ যখন সম্পাদনা করেন তখন উক্ত বর্ণমালার কিছুটা বিশ্লেষণ করেছিলেন। সেই বিশ্লেষণ সূত্রে ‘নেওয়ারী' কথাটি ব্যবহার করেননি। তবে দোহাকোষের ভূমিকায় ‘চচা’ সঙ্গীত আলোচনা প্রসঙ্গে ‘নেবারী’ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন যে সিদ্ধাদের গীত অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত প্রচলিত ছিল অর্থাৎ যতদিন পর্যন্ত বৌদ্ধধর্ম উত্তর ভারতে বিদ্যমান ছিল। যেভাবে কবীর এবং অন্যান্য সন্তদের গান গাওয়া হয়ে থাকে সেভাবেই চর্যাগীতিগুলো গাওয়া হত। সরহপার সময়ে এবং তার পরে উত্তর ভারতে বৌদ্ধধর্ম মহাযানপন্থী ছিল না বজ্রযান হয়ে গিয়েছিল। সরহপা বজ্রযানী চর্যার প্রবর্তক ছিলেন। অবশ্য তার আপন দোহাকোষগীতির সূত্রপাতে তিনি ধর্ম আচরণে সর্বপ্রকার আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করার কথা বলেছেন। ভারতবর্ষে বৌদ্ধধর্ম লুপ্ত হবার সঙ্গে সঙ্গে চর্যাগীতিকার পাঠ লুপ্ত হয়। কিন্তু নেপালে তা বিদ্যমান থাকে। এই চর্যা শব্দের বিকৃত রূপ হচ্ছে চচা। চচা শব্দটি নেবারী ভাষার। নেপালে চচা সঙ্গীতের অনেকগুলো পাণ্ডুলিপি রাহুল সাংকৃত্যায়ন আবিষ্কার করেছিলেন। যদ্যপি চচা সঙ্গীতগুলো মূলত পূর্বী অপভ্রংশে রচিত কিন্তু যারা এই গানগুলো গাইতো তারা ইন্দে৷আর্য গোষ্ঠির মানুষ ছিল না। 

উপরের যেকোনো বিকল্প বেছে নিন

Downloads

Downloads

Download data is not yet available.

Published

1987-02-01

এই জার্নাল উদ্ধৃতির নিয়ম

নেপালী, নেবারী এবং বাংলা. (1987). সাহিত্য পত্রিকা, 30(2), 1-6. https://doi.org/10.62328/sp.v30i2.1

একই বিষয়ের আরও নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…

এই লেখকের অন্যান্য নিবন্ধ

লোড হচ্ছে…
এখন শুনছেন প্রবন্ধের শিরোনাম...
0%